এবারের জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে এবং কোনো ধরনের ছলচাতুরি, জালিয়াতি বা কারচুপির সম্ভাবনা নেই :মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

এবারের জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে এবং কোনো ধরনের ছলচাতুরি, জালিয়াতি বা কারচুপির সম্ভাবনা নেই :মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

রাজনীতি ডেস্ক

আজ বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আকচা ইউনিয়নের ফারাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় মির্জা ফখরুল এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। গত তিনটি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি, আর একটিতে অংশ নিলেও ফল আগেই নির্ধারিত ছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় আমরা সবাই কারাগারে ছিলাম। কিন্তু এবার পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ এসেছে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে দায়িত্বে থাকা সরকার একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহী। মির্জা ফখরুল বলেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে জনগণ এবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। জোরজবরদস্তি বা রাতের ভোট আর হবে না। এবারের নির্বাচন সুন্দর ও স্বচ্ছ হবে।”

পথসভায় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকলেও আপনাদের কোনো ক্ষতি হবে না।” তিনি সকল ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, “হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাইকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। আপনাদের আমানতের প্রতি কোনো অবহেলা করা হবে না।”

মির্জা ফখরুল নির্বাচনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, এবারের ভোট বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার একটি বিশেষ সুযোগ। তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন নির্বাচনের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে জনগণ নিজেদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারবে।

তিনি এছাড়াও বলেন, জাতীয় নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের জন্য নির্বাচনী তদারকি ও পর্যবেক্ষণ কৌশল উন্নত করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষক, রাজনৈতিক দল, এবং সিভিল সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের তদারকি এবং সকল পর্যায়ের স্বচ্ছতা ভোটের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে।

বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন নির্বাচনের বাইরে থাকা দলটির পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে এমন প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি নতুন সুযোগ এবং জনমতের সংহতি বৃদ্ধির দিকে নির্দেশ করে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের জন্য ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

পথসভায় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সময় নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করবে, এবং নির্বাচনের ফলাফল গণতান্ত্রিক নিয়মে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি স্থানীয় ভোটারদের উৎসাহিত করেন যাতে তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে ভোটের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে বিএনপির পক্ষ থেকে এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের দৃঢ়তা প্রতিফলিত হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচনী সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ