রাজনীতি ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইশতেহার উন্মোচন করবেন। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করবেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
দলটির জন্য এই ইশতেহার ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান, এবং এটিই তার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো দলের নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ। ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত দিকনির্দেশনা, রাজনৈতিক সংস্কার, অর্থনীতি, প্রশাসন, নির্বাচনব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলের অবস্থান ও অগ্রাধিকারের প্রতিফলন থাকবে বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে ইশতেহার ঘোষণার ধারাবাহিকতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের দিকটি এখানে স্পষ্ট। অতীতে পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ওই সময় প্রতিটি নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনিই। দলীয় নীতিনির্ধারণী কাঠামো ও নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির প্রধান উপস্থাপক হিসেবে তার ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নিলেও সে সময় দলীয় চেয়ারপার্সন কারাবন্দি ছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে বিএনপির পক্ষে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জোটগত কাঠামোর কারণে ইশতেহারের ভাষা ও কাঠামোতে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করে থাকেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণাকে দলটির রাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে দলটির নির্বাচনি অঙ্গীকার, নীতিগত অবস্থান এবং সম্ভাব্য শাসন কাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। সাধারণত নির্বাচনি ইশতেহার একটি রাজনৈতিক দলের জন্য নির্বাচনী প্রচারণার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দলীয় সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন। রাজধানীর একটি বড় সম্মেলনস্থলে আয়োজন হওয়ায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নির্বাচনি ইশতেহার কেবল প্রতিশ্রুতির দলিল নয়; এটি একটি দলের রাজনৈতিক দর্শন ও শাসন ভাবনার প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হয়। সে কারণে বিএনপির ঘোষিত ইশতেহার আগামী নির্বাচনী আলোচনা, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি ইশতেহার উপস্থাপন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পর্যায়ক্রমে তাদের কর্মসূচি ও নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।


