আগামী হজ মৌসুমে বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ভিসা ইস্যু শুরু করবে সৌদি আরব

আগামী হজ মৌসুমে বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ভিসা ইস্যু শুরু করবে সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পবিত্র হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের জন্য ভিসা ইস্যুর সময়সূচি ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য হজ ভিসা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর প্রায় চার মাস আগেই ভিসা ইস্যু কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের জন্য সেবার মান উন্নত করা। সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে হজ ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যেও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের জন্য মক্কা, মদিনা ও পবিত্র স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। আবাসন, পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ ও অন্যান্য সেবামূলক কার্যক্রমের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে মক্কায় হজযাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে সৌদি সরকারের নির্ধারিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘নুসুক’-এর মাধ্যমে। এর ফলে হজযাত্রী ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ হজের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হজযাত্রী নিজ নিজ দেশ থেকেই সরাসরি হজ প্যাকেজ বুক করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের সরাসরি বুকিং ব্যবস্থা হজযাত্রীদের জন্য সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় থাকার ব্যবস্থা হিসেবে মোট ৪৮৫টি ক্যাম্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ৭৩টি দপ্তর তাদের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এসব দপ্তরের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ব্যবস্থাপনা, জনসচেতনতা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি।

সৌদি কর্তৃপক্ষের মতে, আগাম ভিসা কার্যক্রম শুরুর ফলে হজযাত্রীরা তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও সুসংগঠিতভাবে করতে পারবেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত সময় পাবে।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে ২০২৬ সালের হজে যেতে নিবন্ধন করা হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধিত সব হজযাত্রীকেই সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে হজযাত্রীদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে, যাতে হজের সময় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো যায়।

বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিবন্ধিত সব হজযাত্রীকে—প্রবাসী বাংলাদেশিসহ—দেশের যেকোনো সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত টিকাকেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করে ফিটনেস সনদ সংগ্রহ করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ২০ মার্চের মধ্যে হজ ভিসার জন্য আবেদন জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সৌদি আরবের আগাম ভিসা ইস্যু কার্যক্রম এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও ভিসা সংক্রান্ত প্রস্তুতি একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ায় হজ ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হবে। এতে হজযাত্রীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সার্বিকভাবে হজ পালনের পরিবেশ আরও নিরাপদ ও সুব্যবस्थित হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ