খেলাধূলা ডেস্ক
আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ইংলিশ ফুটবল ক্লাব লেস্টার সিটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ইংলিশ ফুটবল লিগ (ইএফএল)। ২০২৩–২৪ মৌসুম পর্যন্ত টানা তিন অর্থবছরে লাভ ও স্থায়িত্ববিষয়ক (প্রফিট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রুলস—পিএসআর) নীতিমালা ভঙ্গ করার কারণে ক্লাবটির ছয় পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ১৭তম স্থান থেকে ২০তম স্থানে নেমে গেছে লেস্টার সিটি।
ইএফএলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত আর্থিক সীমা অতিক্রম করে লোকসান করায় ক্লাবটি শাস্তির আওতায় এসেছে। এর আগের মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন হওয়া লেস্টারের জন্য এই সিদ্ধান্ত নতুন মৌসুমে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। বর্তমানে ক্লাবটির হয়ে খেলছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী, যিনি দলটির মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
ইংলিশ ফুটবলে পিএসআর নীতিমালার আওতায় ক্লাবগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে লোকসান করার বিধান রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগে অংশগ্রহণকারী কোনো ক্লাব তিন বছরের হিসাবে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত লোকসান করতে পারে। তবে কোনো ক্লাব যদি ওই সময়ের মধ্যে শীর্ষ লিগের বাইরে অবস্থান করে, তাহলে প্রতি মৌসুমের জন্য অনুমোদিত লোকসানের সীমা ২ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড করে কমে যায়।
ইএফএলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত লেস্টার সিটির মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ পাউন্ড, যা সংশ্লিষ্ট সময়ের জন্য অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করেছে। এর ফলে ক্লাবটির বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হয় এবং শুনানি শেষে ছয় পয়েন্ট কর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
এর আগে প্রকাশিত আর্থিক বিবরণীতে লেস্টার সিটি জানিয়েছিল, ২০২২–২৩ মৌসুমে তাদের লোকসানের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৯৭ লাখ পাউন্ড। পাশাপাশি ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত আগের ১২ মাসে ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রায় ৯ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ড লোকসান হয়। এসব তথ্য ইএফএলের আর্থিক পর্যালোচনায় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ইএফএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আর্থিক নিয়ম কার্যকরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য ও ক্লাবগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় করলে ক্লাবগুলোকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে—এ বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।
শাস্তির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেস্টার সিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রিমিয়ার লিগের পক্ষ থেকে যে মাত্রার শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছিল, কমিশনের পর্যবেক্ষণে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। তবে ক্লাবটির মতে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাদের উপস্থাপিত যুক্তি ও তথ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চলতি মৌসুমে ক্লাবটির ক্রীড়াগত লক্ষ্যের ওপর এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব রয়েছে। সে কারণে বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। লেস্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো রায় ও যুক্তি বিশ্লেষণ করে তারা ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনি ও প্রশাসনিক বিকল্পগুলো বিবেচনা করা হবে।
ক্লাবটি আরও জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় থাকতে আগ্রহী এবং যেকোনো পরবর্তী পদক্ষেপ যেন ন্যায্য, আনুপাতিক ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়।
চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ছয় পয়েন্ট কর্তনের ফলে লেস্টার সিটির অবস্থান এখন রেলিগেশন জোনের কাছাকাছি চলে এসেছে। মৌসুমের বাকি অংশে তাদের পারফরম্যান্স ও ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে, তারা লিগে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে কি না। আর্থিক শাস্তির পাশাপাশি মাঠের ভেতরের ফলাফলেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন ক্লাবটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


