বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে স্বনির্ভরতার অঙ্গীকার

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে স্বনির্ভরতার অঙ্গীকার

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন কোন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে—সে বিষয়ে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা খাতকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ঘোষিত ইশতেহারে সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, পেশাদার ও রাজনীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর একটি হোটেলের বলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইশতেহারের মূল দিকগুলো উপস্থাপন করেন। ‘কল্যাণমুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারে ঘোষিত এ ইশতেহারে ৯টি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করে মোট ৫১ দফা কর্মসূচি তুলে ধরা হয়।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি শক্তিশালী ও সক্ষম সশস্ত্র বাহিনী অপরিহার্য। বিএনপির মতে, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনীই কেবল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনীকে সব ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে এর প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার কথা বলা হয়েছে।

ইশতেহারে চতুর্মাত্রিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুগোপযোগী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বাহিনী গড়ে তুলে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ সক্ষমতা’ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়। এ জন্য জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা, সশস্ত্র বাহিনীর বিরাজনীতিকরণ এবং পেশাদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নের অঙ্গীকার করেছে। এই কৌশলের ভিত্তিতে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে একটি সর্বাঙ্গীণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, মাল্টি-ডোমেন যুদ্ধ সক্ষমতা অর্জন এবং দেশীয় প্রযুক্তি উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা নীতি ও ডকট্রিন প্রসঙ্গে ইশতেহারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’-এর আলোকে একটি আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

আকাশসীমা সুরক্ষাকে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করে বিমান বাহিনীর উন্নয়নকে ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

সমুদ্রনির্ভর অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে। সমুদ্র যোগাযোগপথ নিরাপদ রাখা এবং দেশের সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি দেশীয়ভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণের বিষয়ে ইশতেহারে ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ নীতি প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে ন্যায়বিচার ও আর্থিক সমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রেশনসহ অন্যান্য যৌক্তিক সুবিধা প্রদানের অঙ্গীকার করা হয়।

এ ছাড়া গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপি জানিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দমনে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সামাজিক ও প্রতিরোধমূলক কৌশলের মাধ্যমে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও বৈষম্য হ্রাস করে দীর্ঘমেয়াদে উগ্রবাদ দমনের পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ