শাহবাগে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের টিয়ারশেল, বন্ধ রাখা হলো মেট্রোর দুটি স্টেশনে যাত্রাবিরতি

শাহবাগে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের টিয়ারশেল, বন্ধ রাখা হলো মেট্রোর দুটি স্টেশনে যাত্রাবিরতি

রাজধানী ডেস্ক

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা মেট্রোরেল সাময়িকভাবে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন থামানো বন্ধ রেখেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

মেট্রোরেল পরিচালনাকারী এমআরটি লাইন-৬-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এই দুটি স্টেশনে যাত্রাবিরতি স্থগিত রাখা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা ৫৮ মিনিট থেকে শাহবাগ স্টেশন এবং রাত ৮টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন থামানো বন্ধ করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দিনের বাকি সময়েও এই দুটি স্টেশনে ট্রেন থামানো হবে না বলেও জানানো হয়।

কর্মকর্তারা আরও জানান, শুক্রবার মেট্রোরেলের নিয়মিত সূচি অনুযায়ী উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে সর্বশেষ ট্রেন রাত ৯টায় এবং মতিঝিল স্টেশন থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে যাত্রাবিরতির পরিবর্তনের কারণে সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোর যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনার বিচার এবং জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের দাবিতে একদল আন্দোলনকারী অবস্থান নেন। পরে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে প্রথমে বাধা দেয় এবং পরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এই সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম সংগঠক জাবের এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ৩১ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকদের সূত্রে জানা যায়। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর শাহবাগ মোড় ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনা ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, হত্যার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তদন্ত প্রয়োজন। এ দাবিতে তারা একাধিকবার প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কথা জানান। তবে শুক্রবারের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। এখানে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিরতা দ্রুত জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্টেশন দুটিতে পুনরায় ট্রেন থামানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া সংঘাতপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজধানী শীর্ষ সংবাদ