জাতীয় ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একটি বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টা তার শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে হঠাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আপাতত তার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। চিকিৎসক দল জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে নতুন করে কোনো জটিলতা দেখা দিলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, আশ্চর্যজনকভাবে হার্ট অ্যাটাকের আগে বা পরে তিনি তীব্র কোনো বুকব্যথা অনুভব করেননি। চিকিৎসকদের ধারণা, গত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো এক সময়ে এই হার্ট অ্যাটাকটি ঘটে থাকতে পারে। তবে নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’ নামে পরিচিত এমন ঘটনা ঘটে, যেখানে রোগী তেমন কোনো উপসর্গ টের পান না, কিন্তু হৃদ্যন্ত্রে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও মীর মোস্তাফিজুর রহমান মানসিকভাবে সচেতন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান, ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার চেয়েও অন্য মানুষের চিকিৎসা ও সহায়তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর কেমোথেরাপির জন্য আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তার বিষয়টি তাকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে দেখা গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই মানসিক চাপ কমানোও এখন তার চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মীর মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবার জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মুগ্ধকে হারানোর পর থেকে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও শোক হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদ্রোগের ক্ষেত্রে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক সুস্থতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
শহীদ মীর মুগ্ধ ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থনের একজন পরিচিত শহীদ। তার পরিবার ও সহযোদ্ধারা মনে করেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধে তিনি ছিলেন অনুকরণীয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মূল্যবোধ গড়ে ওঠার পেছনে তার বাবার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে বাবার অসুস্থতার খবরে স্বজন ও পরিচিত মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মীর মোস্তাফিজুর রহমানের চিকিৎসায় একটি বিশেষজ্ঞ দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তার রক্তচাপ, হৃদ্স্পন্দন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধরার এবং চিকিৎসা নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বলেন, হৃদ্রোগের ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যাদের পরিবারে হৃদ্রোগের ইতিহাস রয়েছে বা যারা দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও বেশি প্রয়োজন।
বর্তমানে মীর মোস্তাফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ও স্থিতিশীলতা আগামী কয়েক দিনের পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তার দ্রুত সুস্থতার জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


