রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকা-৬ আসনের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরান ঢাকায় বিএনপির নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বক্তব্য দিয়ে দলীয় প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের পক্ষে ভোটারদের সমর্থন কামনা করেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পুরান ঢাকার ধুপখোলা মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা এলাকায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী সাদেক হোসেন খোকা নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-৬ আসনের ভোটাররাও এবারের নির্বাচনে খোকার পুত্র ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে নির্বাচিত করবেন। তিনি ইশরাক হোসেনকে পুরান ঢাকার সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি এলাকার মানুষ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত থাকবেন বলে দল আশাবাদী।
রুহুল কবির রিজভী তার বক্তব্যে সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাদেক হোসেন খোকা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তার মতে, ইশরাক হোসেন তার পিতার আদর্শ অনুসরণ করে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ঘটনায় ইশরাক হোসেন সহযোগিতামূলক ভূমিকা রেখেছেন।
জনসভায় রিজভী আরও বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় ইশরাক হোসেনের কর্মসূচিতে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দল অভিযোগ করে আসছে। এসব পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি প্রচারণা চালিয়ে গেছেন এবং মনোবল হারাননি বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তার বক্তব্যে ইশরাক হোসেনের ব্যক্তিগত আচরণ, সততা ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গও উঠে আসে, যা তিনি ভোটারদের কাছে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ইশরাক হোসেনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী শক্তিকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক আদর্শের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন নিজেও। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে চলমান শাসনব্যবস্থার মূল্যায়ন ও সংশোধনের প্রশ্নে এই নির্বাচন একটি সিদ্ধান্তমূলক পর্যায়। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।
ইশরাক হোসেন তার সম্ভাব্য নির্বাচনি কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কেও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ঢাকা-৬ আসনের কোতোয়ালি, বংশাল, সূত্রাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এলাকায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনসেবার মান উন্নয়নে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এলাকার দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা গ্যাস সংকট। নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সভাস্থলে নির্বাচনি প্রচারণামূলক স্লোগান ও বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় অবস্থান তুলে ধরা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে ঢাকা-৬ আসনেও নির্বাচনি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


