টানা মূল্যবৃদ্ধির পর স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস

টানা মূল্যবৃদ্ধির পর স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস


অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম এক ধাপে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নেমে এসেছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকায়।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাজুসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী দেশের সব জুয়েলারি দোকানে স্বর্ণ কেনাবেচা কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, স্থানীয় বাজারের বাস্তবতা এবং কাঁচামাল আমদানির ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এই মূল্যসমন্বয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

এর আগে চলতি মাসের ৩ ফেব্রুয়ারি স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন বিকেলে দ্বিতীয় দফায় ভরিপ্রতি ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ওই ঘোষণার পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের অন্যতম উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, যা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

সর্বশেষ ঘোষিত দর অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ১ লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এসব দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ভ্যাট ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি যুক্ত হবে।

বাজুসের তথ্যমতে, চলতি বছরে এ নিয়ে দেশের বাজারে মোট ২৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ৯ বার কমানো হয়েছে। ঘন ঘন মূল্যসমন্বয়ের এই প্রবণতা স্বর্ণবাজারের অস্থিরতা নির্দেশ করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ৯৩ বার। এর মধ্যে ৬৪ বারই ছিল মূল্যবৃদ্ধি, যা ওই বছরের বাজার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অস্থির করে তুলেছিল। একই সময়ে মোট ২৯ বার স্বর্ণের দাম কমানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আমদানিনির্ভর কাঁচামালের ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব দেশের বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক মূল্যহ্রাসে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। বিশেষ করে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক স্বর্ণের চাহিদা যেসব সময়ে বাড়ে, সেখানে উচ্চমূল্যের কারণে বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। দাম কিছুটা কমায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে পারে বলে তারা আশা করছেন। তবে দাম স্থিতিশীল না হলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণের বাজারে ধারাবাহিক ওঠানামা শুধু অলংকার শিল্পেই নয়, সামগ্রিক ভোক্তা আস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে। স্বর্ণকে অনেকেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন। ফলে দামের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বিনিয়োগ সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য মূল্যনীতি অনুসরণ করলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসতে পারে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ