রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) উত্তরাঞ্চলের তিন জেলা সফরে যাচ্ছেন। সফরসূচি অনুযায়ী তিনি প্রথমে ঠাকুরগাঁও, পরে নীলফামারী এবং সর্বশেষ দিনাজপুরে যাবেন। এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি একাধিক জনসভায় বক্তব্য দেবেন এবং পারিবারিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে কবর জিয়ারত করবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমানের সফরের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচির নতুন একটি ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির আয়োজনে প্রথম জনসভাটি অনুষ্ঠিত হবে শহরের বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। এ জনসভাকে কেন্দ্র করে জেলা ও আশপাশের এলাকার নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি জানিয়েছে, এই জনসভাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ এটি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচনী এলাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি নিজেও জনসভায় উপস্থিত থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। আয়োজকদের দাবি, জনসভায় জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলা থেকেও বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, তারেক রহমান ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তিনি সরাসরি ঠাকুরগাঁওয়ের জনসভাস্থলে যাবেন। জনসভা শেষে তিনি তাঁর নানা-নানী ও খালার কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি নীলফামারীর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন, যেখানে আরেকটি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
নীলফামারী সফর শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলায় যাবেন। দলীয় সূত্র জানায়, বিরামপুর এলাকায় তারেক রহমানের পারিবারিক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। সেখানে তিনি সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান করবেন এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করবে। তাদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার হবে। একই সঙ্গে আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ আন্দোলন নিয়ে দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন।
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সফরটি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ জানিয়েছে, তারেক রহমানের আগমন ও জনসভা উপলক্ষে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জনসভাস্থল, যাতায়াত পথ এবং আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নীলফামারী ও দিনাজপুরেও গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের তিন জেলায় এই সফর বিএনপির জন্য সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সরাসরি উপস্থিতিতে জনসভা আয়োজন দলীয় কর্মকাণ্ডকে দৃশ্যমান করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ জোরদার করবে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
সফর শেষে তারেক রহমান ঢাকায় ফিরে যাবেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।


