আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে ইসরাইল গাজায় তাদের মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিয়েছে। এর ফলে খাদ্য, ওষুধ, স্বাস্থ্যসামগ্রী এবং আশ্রয় উপকরণসহ জরুরি সহায়তা সামগ্রী প্রতিবেশী দেশগুলো মিশর ও জর্ডানের গুদামে আটকা পড়ে আছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু তা গাজার দিকে প্রবেশ করতে পারছে না।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, সংস্থার মানবিক সহায়তার চালানগুলো কয়েক মাস ধরে সীমান্তের বাইরে সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পোস্টে বলা হয়েছে, ‘সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। মানবিক সহায়তা এখনই প্রাপ্য মানুষের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন।’
ইসরাইলের ২০২৪ সালের শেষ দিকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএ’র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর থেকে সংস্থাটির ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইসরাইলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন জানান, পূর্ব জেরুজালেমে সংস্থার সদর দপ্তরে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিজেই এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার তদারকি করেছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কোহেন উল্লেখ করেন, ‘কথায় ও কাজে আমি ইউএনআরডব্লিউএ’র জন্য পানি বন্ধ করেছি।’ এর আগে এক ইসরাইলি রেডিও স্টেশনে তিনি জানান, সংস্থার স্থাপনাগুলোতে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে তিনি পূর্ব জেরুজালেমে যাচ্ছেন। কোহেন আরও বলেন, ‘ইসরাইল রাষ্ট্রে ইউএনআরডব্লিউএ’র কোনো জায়গা নেই।’
বিশ্লেষকরা মনে করেন, গাজার সীমান্তে মানবিক সহায়তা প্রবেশে এই ধরনের বাধা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ সময় খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং আশ্রয় উপকরণে অভাব শরণার্থীদের স্বাস্থ্য ও জীবনমানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ইউএনআরডব্লিউএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় প্রায় ২ মিলিয়ন ফিলিস্তিনি শরণার্থী বসবাস করছে এবং তারা বিভিন্ন প্রকার মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
গত কয়েক বছর ধরে ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনি অঞ্চলের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে গেছে। এর প্রভাব সরাসরি মানবিক সহায়তার কার্যক্রমে পড়েছে। পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএ’র কার্যক্রম সীমিত হওয়ার কারণে সংস্থাটি গাজা উপত্যকায় সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে পারছে না। সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সঠিক সময়ে সহায়তা না পৌঁছানো শরণার্থীদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একজন প্রতিনিধি উল্লেখ করেছেন, গাজার সীমান্তে সহায়তা প্রবেশ বাধাপ্রাপ্ত হলে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে, প্রতিবেশী দেশগুলোর গুদামে আটকা পড়া সহায়তা সামগ্রীর দ্রুত বিতরণ ও নিরাপদ প্রবেশ নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গাজায় সংকট প্রতিরোধে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। তারা দাবি করছে, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা মানবিক কারণে অবিলম্বে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবিক সহায়তার কার্যক্রম বন্ধ থাকলে এটি শুধু শরণার্থীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করবে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ইসরাইল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং মানবিক প্রবেশাধিকারের নিশ্চয়তা গাজার জনসংখ্যার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


