আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের নিকটবর্তী একটি শিয়া মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে নারী ও শিশুসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হামলার কয়েক মিনিটের মধ্যে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।
স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করেছেন। হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। হামলার সময় মসজিদে প্রচুর মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন, কারণ জুমার নামাজের প্রস্তুতি চলছিল।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ইসলামাবাদ ও আশেপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারী প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় উপাসনালয়গুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আইএসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছে। এই ঘটনার ফলে পাকিস্তানে জঙ্গি তৎপরতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনরায় উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের হামলা ইসলামাবাদসহ দেশের অন্যান্য শহরে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তি ভঙ্গ করার লক্ষ্য বহন করে। পাকিস্তান সরকারও বারবার এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় বিশেষ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি শক্তিশালী করেছে।
পুলিশ ও তদন্তকারীরা বিস্ফোরণের ধরন, ব্যবহারকৃত বিস্ফোরক ও হামলার পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে তৎপর রয়েছে। স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্র জানায়, হামলাটি সুচারুভাবে পরিকল্পিত ছিল এবং এটি ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
হামলার পর সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত অবস্থায় অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে। ধর্মীয় নেতারা সতর্ক করেছেন যে, সম্প্রদায়ভিত্তিক সহিংসতা এড়াতে সকলকে শান্তি ও সংহতির পথে এগোতে হবে।
পাকিস্তান সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনী এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে জোরদার ব্যবস্থা নেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এ ঘটনায় তদন্তে সহযোগিতা করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই হামলা পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সক্রিয়তা এবং ধর্মীয় উগ্রপন্থী শক্তিগুলোর প্রভাব আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার প্রমাণ দিচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।


