বাংলাদেশ ডেস্ক
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত ৯ বছর বয়সী শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তার মামা মাহফুজুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
হুজাইফা ১১ জানুয়ারি সকালে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হন। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সরকারি বাহিনী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে। এসব হামলার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে জটিল হয়ে উঠেছে।
সীমান্তবর্তী এলাকা তদারকিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষের ফলে ওপারের গোলাগুলির প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে। এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা এবং সীমান্ত পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলছে।
এ ধরনের সশস্ত্র সহিংসতার প্রভাব শিশু ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সুবিধা সংক্রান্ত ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
হুজাইফা সুলতানার মৃত্যু মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সীমান্ত উত্তেজনা এবং ওপারের গোলাগুলির কারণে বাংলাদেশে সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর সঙ্কটের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত পরিস্থিতির অব্যাহত উত্তেজনা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মানুষের জীবনযাত্রা এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।


