কারাগারে অসুস্থ হয়ে সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যু

কারাগারে অসুস্থ হয়ে সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যু

রাজনীতি ডেস্ক
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ (সদর উপজেলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে বন্দি অবস্থায় শনিবার সকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে তাঁকে দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সময় তিনি কারা হেফাজতে ছিলেন।

দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার মো. ফরহাদ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি জানান, কারা হেফাজতে কোনো বন্দির মৃত্যু হলে সুরতহাল, প্রয়োজন হলে ময়নাতদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নিয়ম রয়েছে, যা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।

কারাগার সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশ রমেশ চন্দ্র সেনকে আটক করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন ১৭ আগস্ট তাঁকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। মৃত্যুর সময় তিনি হত্যাসহ মোট তিনটি মামলায় কারাবন্দি ছিলেন। মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম চলমান ছিল।

রমেশ চন্দ্র সেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন এবং সরকারের বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে দেশের নদী ব্যবস্থাপনা, সেচ ও পানি উন্নয়ন সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে তিনি সংশ্লিষ্ট ছিলেন।

সংসদীয় রাজনীতিতে রমেশ চন্দ্র সেন ঠাকুরগাঁও-১ (সদর উপজেলা) আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদে তিনি সংশ্লিষ্ট আসনের অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য ও কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

কারা হেফাজতে তাঁর অসুস্থতা ও মৃত্যু নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে। হাসপাতাল ও কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চিকিৎসা সংক্রান্ত চূড়ান্ত মতামত আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলো নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে।

রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার-পরিজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর তাঁর শেষকৃত্যের বিষয়ে পরিবার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সংক্রান্ত সব কার্যক্রম আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।

একজন প্রবীণ রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রীর কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা অতিরিক্ত মন্তব্য করা হয়নি।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ