বাংলাদেশ ডেস্ক
আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য চারটি পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটাররা ঘরে বসেই কিংবা সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর এবং নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের নাম ও ঠিকানা জানতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যেন ভোটারদের বিভ্রান্তি বা ভোগান্তির মুখে পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যেই আগেভাগে তথ্য জানার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্র সম্পর্কে নিশ্চিত না থাকলে ভোট দিতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্র পরিবর্তন বা তথ্য যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে ডিজিটাল ও যোগাযোগভিত্তিক একাধিক পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
প্রথম পদ্ধতিতে ব্যবহার করা যাবে ‘Smart Election Management BD’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। ভোটারদের গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে হবে। ইনস্টল শেষে অ্যাপের ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ নির্বাচন করে ‘ভোট কেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম এবং কেন্দ্রের ঠিকানা পর্দায় প্রদর্শিত হবে। নির্বাচন কমিশনের মতে, স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি সবচেয়ে দ্রুত ও সহজ উপায়।
দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো হটলাইন সেবা। এ ক্ষেত্রে ভোটারদের ১০৫ নম্বরে ফোন করে তথ্য জানতে হবে। ফোন করার সময় ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রয়োজন হবে। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই নম্বরে কল করে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকবে। নির্বাচন কমিশন বলছে, স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহারে অনভ্যস্ত ভোটারদের জন্য হটলাইন পদ্ধতিটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তৃতীয় পদ্ধতিতে এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য জানা যাবে। মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে নির্ধারিত ফরম্যাটে তথ্য লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। এই পদ্ধতিতে ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন নেই, ফলে সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরাও সহজে সেবা নিতে পারবেন।
চতুর্থ পদ্ধতিতে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে তথ্য জানার সুযোগ রাখা হয়েছে। ভোটারদের ল্যাপটপ, ডেস্কটপ বা মোবাইল ব্রাউজার থেকে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করলে ভোটকেন্দ্র অনুসন্ধানের অপশন পাওয়া যাবে। ওয়েবসাইটে দুটি উপায়ে তথ্য অনুসন্ধান করা যাবে। প্রথমত, নির্বাচনি এলাকা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার সব ভোটকেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে। দ্বিতীয়ত, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে সরাসরি অনুসন্ধান করলে ব্যক্তিগত ভোটার নম্বর ও নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আরও একটি সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের অবস্থান গুগল ম্যাপে দেখা যাবে। এর ফলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব, যাতায়াতের সম্ভাব্য পথ এবং আনুমানিক সময় সম্পর্কে আগাম ধারণা নিতে পারবেন। বিশেষ করে নতুন ভোটার বা যারা সম্প্রতি ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন, তাদের জন্য এই সুবিধা সহায়ক হবে বলে মনে করছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সময়মতো ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জেনে রাখলে ভোটগ্রহণের দিন শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।


