লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থীকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য সতর্ক বার্তা

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থীকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য সতর্ক বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী রেজাউল করিম (দাঁড়িপাল্লা)কে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সতর্ক করেছে। কমিশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পুনরায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (আইন-১) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত চিঠিতে রেজাউলকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য সতর্ক করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, তিনি নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন এবং ভোটারকে নগদ অর্থ প্রদান ও ঘর নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে ভোট চেয়েছেন।

রেজাউল করিম ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ৯ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর-৩ সংসদীয় আসনের ৮নং ওয়ার্ডের একাডেমি রোড এলাকায় মাহফুজা খাতুন (৮৫) নামে এক নারীকে নগদ অর্থ প্রদান এবং ঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেজাউল ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট চেয়েছিলেন।

এই ঘটনায় একই আসনের বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি ‘ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটি’-তে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরবর্তীতে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করে এবং ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশন জানায়, রেজাউলের কর্মকাণ্ড ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি, ২০২৫’-এর ৪(১) ও ১৮ বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

সতর্কবার্তায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি প্রার্থী পুনরায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ৯১ক (৬গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রার্থীর ওপর জরিমানা আরোপ বা প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম মেহেদী হাসান এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়, তবে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সতর্কবার্তা নির্বাচনী আচরণবিধি রক্ষা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলা না থাকলে তা ভোটারদের প্রতি অপ্রাসঙ্গিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনটি স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত হয়। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং প্রতিযোগিতা তীব্র। এই সতর্কবার্তা প্রার্থীদের জন্য একটি বিরামহীন বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা আচরণবিধি মান্য করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।

এই ঘটনায় প্রার্থিতা সংক্রান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা থাকায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ