ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশাল মোতায়েন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশাল মোতায়েন

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ও ভোট গ্রহণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আনুষঙ্গিক সংস্থাগুলোর ব্যাপক মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোট কেন্দ্রে নিরাপদ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের লক্ষ্যে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা বিতরণ করা হচ্ছে।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সারাদেশে এক লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন সদস্য, তিন হাজারের বেশি কোস্টগার্ড সদস্য এবং পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৬ জন আনসার সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া তদারকিতে কাজ শুরু করবেন। ১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সকাল থেকে এক লাখ ৫৭ হাজার পুলিশ সদস্য এবং র‍্যাবের নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য ২৯৯টি আসনে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।

এছাড়া, দেশের বাইরে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শফিকুল আলম জানান, চার লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি ব্যালট ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। এই পোস্টাল ভোটে যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৯৪ শতাংশ পুরুষ ভোটার।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষকও মোতায়েন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচনে প্রায় চারশ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৫০ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১২০ জন বিদেশি সাংবাদিকও নির্বাচনী কার্যক্রম রিপোর্টিংয়ের জন্য উপস্থিত থাকবেন।

নিরাপত্তা ও নজরদারি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে নতুন ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। শফিকুল আলম জানান, নির্বাচনি কর্মকর্তা এবং সুরক্ষা কর্মকর্তারা এই অ্যাপ ব্যবহার করবেন, যার মাধ্যমে ভোট গ্রহণের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হবে। অ্যাপটির মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পুলিশ ও র‍্যাবের মোতায়েন, জরুরি কল এবং সমস্যার তথ্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নির্বাচনের আগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সব ভোট কেন্দ্র এবং নির্বাচনী স্থাপনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শফিকুল আলম আরও বলেন, বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে ভোট কেন্দ্রগুলিতে সম্ভাব্য সংঘাত ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করা যাবে।

সার্বিকভাবে, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সামরিক সদস্য, আনসার ও কোস্টগার্ড, পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাবের সঙ্গেও সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে নির্বাচন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে।

এই নির্বাচনের নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনা জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার গুরুত্ব এবং প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি করার দিকেও ইঙ্গিত করছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ