প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সন্তুষ্ট নির্বাচনী প্রচারণায়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সন্তুষ্ট নির্বাচনী প্রচারণায়

জাতীয় ডেস্ক

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি বলেন, চলমান নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং উৎসাহব্যঞ্জক। প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, কারও বিরুদ্ধে কটু কথা বলার ঘটনা বা কোনো ধরনের অভদ্র আচরণ লক্ষ্য করা যায়নি, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা যায়।

বৈঠক শেষে যমুনার সামনে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, সভায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ড. ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা সন্তুষ্ট, আমরা খুবই খুশি।”

প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভোটগ্রহণের সুষ্ঠু ও নির্ভুল সম্পন্ন করা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এখন আমাদের লক্ষ্য হলো—ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা।” ভোট গ্রহণের মাত্র চার দিন বাকি থাকায় সামনের সপ্তাহটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।

ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন নির্বাচন হবে নিরাপদ ও উৎসবমুখর। তিনি প্রত্যাশা করেন, নারীরা আনন্দের সঙ্গে ভোট প্রদানে অংশ নেবেন এবং সাধারণ মানুষ পরিবারসহ নির্বাচনী উৎসবে অংশগ্রহণ করবেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি আশা করি, এই নির্বাচন ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনের পূর্বপর্যায় থেকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভোটারের আস্থা বৃদ্ধি করে এবং সাধারণ জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে। নিরাপত্তা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সমগ্র দেশের জন্য নিরাপদ ভোটার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। প্রধান উপদেষ্টার আশাবাদ অনুযায়ী, ভোটাররা পরিবার ও সমাজের সঙ্গে অংশ নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ইতিবাচক নির্বাচনী পরিবেশ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশব্যাপী ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনের বৈধতা নিশ্চিত করবে। প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্য অনুযায়ী, ভোটার সচেতনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ