রাজনীতি ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বাড্ডায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় জানান, ১১ দলীয় জোট আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় এলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করা হবে। তিনি এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জোটের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি তথ্য প্রদান করেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, একাধিক রাজনৈতিক দল দুর্নীতি দমন এবং স্বচ্ছ সরকার গঠনের কথা বললেও বাস্তবে ঋণ খেলাপিদের মনোনয়ন দিয়ে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে। তিনি যুক্তি দেখান, যারা ঋণ খেলাপি, তাদের কার্যক্রম প্রতিরোধ করা না হলে কার্যকরভাবে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি আসন্ন নির্বাচনে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করবে এবং ভোটের মাধ্যমে তাদের ‘লাল কার্ড’ দেখাবে। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং জোট গঠনকে কেন্দ্র করে সরকারের সম্ভাব্য নীতি ও জনমত সম্পর্কিত প্রতিফলন পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতে ইসলামীর এ ধরণের ঘোষণা রাজনৈতিক নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রতিপক্ষের মনোভাব প্রভাবিত করতে পারে। জোটের ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ নির্বাচনী সময়ে সমালোচনা ও সমর্থনের দু-দিকেই প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অনুষ্ঠিত এই জনসভায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। জনসভায় মূলত নির্বাচনী পরিস্থিতি, দলীয় নীতি ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য নির্বাচনী প্রচারণার প্রেক্ষাপটে প্রতিপক্ষের কার্যক্রম ও সরকারের সম্ভাব্য নীতি নিয়ে প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী জনসভা ও প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে তাদের প্রভাব বিস্তার এবং ভোটাভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে জোট ভিত্তিক রাজনীতিতে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের নাম ঘোষণা নির্বাচনী কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এমন ঘোষণার প্রভাব ভোটারের মনোভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, ঋণ খেলাপি ও দুর্নীতিবাজের প্রতি জনমতের প্রতিফলন নির্বাচনী ফলাফলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।


