নারীদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসার জন্য রাজনৈতিক দলের সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজন

নারীদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসার জন্য রাজনৈতিক দলের সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজন

রাজনীতি ডেস্ক

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী: অবদান ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই আয়োজনটি করেছে উইমেন ইন ডেমোক্রেসি (উইন্ড)।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণে এখনও নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একটি কার্যকর আচরণবিধি থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, “সেফটির দিক থেকে কোনো নারী নেত্রী বা স্টুডেন্ট লিডারের ওপর যদি কোনো হুমকি থাকে, দলগুলো লিগ্যাল কোড অব কন্ডাক্টের মাধ্যমে তাদের রক্ষা করবে এবং দায়িত্ব গ্রহণ করবে।”

লন্ডনে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা জাইমা রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরে আসেন এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের জন্য সহায়তা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। নারীদের মেন্টরশিপ এবং অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করা হলে তাদের নেতৃত্বের পথ সুগম হবে। জাইমা রহমান বলেন, “যে নারীর মেধা আছে, তাকে দাঁড়ানোর জন্য যথাযথ সুযোগ দেওয়া উচিত। এটি সংসদীয় আসন হোক বা স্থানীয় সরকারে।”

গোলটেবিলে অংশ নেওয়া অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নারীদের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে নারীরা নেতৃত্বের জন্য পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পারবে না। এর জন্য নারীদেরকে স্ব-প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের রাজনীতিতে এগিয়ে আনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ভূমিকা না নেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে নারীদের জন্য কিছু অর্জন থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি সম্প্রতি কিছু নারীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সমাজে নারীর অধিকার ও স্বাধীন নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দিতে হবে। আইনজীবী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, গত ১৮ মাসে নারী আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে অনলাইন ও অফলাইনে স্লাটশেমিং ও হয়রানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

শ্রমিক নেতা কল্পনা আক্তার নির্বাচনে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। মুক্তিযোদ্ধা লুৎফা হাসান রোজি বলেন, সমান অধিকারের পরিবেশ এখনো দেশের সামাজিক কাঠামোয় যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা বলেন, ৫ আগস্টের পর গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া নারীদের একাধিকভাবে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং প্রতিরোধে সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ডাকসুর কার্যকরী সদস্য হেমা চাকমা বলেন, নারীদের অবদানকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না, বরং তাদের কর্মকাণ্ড ও পোশাক নিয়ে সমালোচনা করা হয়। এই কারণে নারীরা কথা বলার ক্ষেত্রে চাপে থাকে।

গোলটেবিল বৈঠকটি টিভি উপস্থাপক কাজী জেসিন সঞ্চালনা করেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী তাসলিমা আখতার, অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান, অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, সাংবাদিক জায়মা ইসলাম, ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বি প্রমুখ।

এতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীর নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের জন্য প্রশিক্ষণ, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং সাংগঠনিক সহায়তা অপরিহার্য।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ