সুনামগঞ্জ-৩ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন

রাজনীতি ডেস্ক

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। জগন্নাথপুর উপজেলায় দলের কার্যালয়ে গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুশতাক আহমদ জানান, “শুরু থেকেই এখানে জোটের প্রার্থী নিয়ে জটিলতা ছিল। শেষ পর্যন্ত একজনকে প্রার্থী করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি আরও সমাধানযোগ্য নয় বলে দলীয়ভাবে আমরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, তার দল কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে না।

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে জোটের অন্য প্রার্থীরা শর্ত দিয়েছিলেন যে এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। জোটের অন্য প্রার্থীদের জন্য আসনটি উন্মুক্ত রাখা হবে। এরপর শর্ত মেনে জামায়াতের প্রার্থী মো. ইয়াসীন খান তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। তবে পরে জোটসঙ্গীরা অভিযোগ তোলেন, জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও তারা কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেননি।

শেখ মুশতাক আহমদ নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মোহাম্মদ শাহীনূর পাশা চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম, এবং দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহফুজুর রহমান ও হুসাইন আহমেদ।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সরে দাঁড়ানো আসনে ভোট বিভাজন ও জোটের কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং ভোটারদের মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে অবস্থান স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সুনামগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় এই ধরণের দলীয় সমন্বয় সমস্যা নতুন নয়। অতীতে বিভিন্ন আসনে দলের অভ্যন্তরীণ সমঝোতার অভাব এবং জোটের মধ্যে প্রতিযোগিতা নির্বাচনী ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। এই ঘটনা নির্বাচনী আচরণ এবং রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর ভোটারদের ধারণাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা, জনসভা ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে কোনো পরিবর্তন বা নতুন সমঝোতা আসনভিত্তিক ভোটের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

এই নির্বাচন স্থানীয়ভাবে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছে। ভোটের ফলাফল ১১ দলীয় জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং রাজনৈতিক কৌশলের দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে। একই সঙ্গে এই ঘটনা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতেও জোট সমন্বয় এবং দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ