ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার চার্জগঠন শুনানি ২ মার্চ পর্যন্ত পিছিয়েছে

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার চার্জগঠন শুনানি ২ মার্চ পর্যন্ত পিছিয়েছে

আইন আদালত ডেস্ক

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার চার্জগঠন সংক্রান্ত শুনানি নতুন করে আগামী ২ মার্চ ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিনের আদালত এই নতুন তারিখ ঘোষণা করেন।

মামলাটি ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছিল। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর তদন্ত শেষে ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ওই মিটিংয়ে শেখ হাসিনা তার নেতাকর্মীদের কাছে দেশবিরোধী বক্তব্য প্রদান করেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এই বক্তব্য দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

মামলাটির আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে, চার্জগঠনের শুনানি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে আদালত প্রমাণপত্র ও অভিযুক্তদের অবস্থান পর্যালোচনা করে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার ফলে মামলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে এবং আসামিপক্ষের জন্য যথাযথ প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির জন্য সময় বাড়তে পারে।

সিআইডি মামলাটি পরিচালনার সময় বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত চার্জগঠন শেষে মামলার পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী ধাপে রায় ঘোষণা বা ট্রায়াল শুরুর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

এই মামলাকে রাজনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকরা বিশেষ গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন ধরনের মামলার প্রভাব নির্বাচনী ও পার্টি কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। মামলার প্রক্রিয়া ও চার্জগঠনের তারিখ পরিবর্তনের তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে নাগরিকরা রাষ্ট্রীয় আইন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত থাকছেন।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ