পেস আক্রমণের দাপটে ওমানকে হারিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু জিম্বাবুয়ের

পেস আক্রমণের দাপটে ওমানকে হারিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু জিম্বাবুয়ের

খেলাধূলা ডেস্ক

তিন পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্সের নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর বোলিংয়ের ওপর ভর করে সহজ জয় দিয়ে আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু করেছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা ৩৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে পরাজিত করেছে ওমানকে। ম্যাচজুড়ে বল ও ব্যাট—দুই বিভাগেই জিম্বাবুয়ের আধিপত্য স্পষ্ট ছিল।

শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ওমান। তবে শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের পেস আক্রমণের সামনে বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। ইনিংসের প্রথম চার ওভারের মধ্যেই মাত্র ২৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ওমান। পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি নিজের প্রথম স্পেলেই ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়ে তোলেন। তার ধারাবাহিক গতিময় ও লাফিয়ে ওঠা বল সামলাতে ব্যর্থ হন ওমানের টপ অর্ডারের বেশির ভাগ ব্যাটার।

প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন সুফিয়ান মেহমুদ ও ভিনায়েক শুকলা। ষষ্ঠ উইকেটে তারা ৪৩ বলে ৪২ রানের একটি জুটি গড়ে ইনিংস কিছুটা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সুফিয়ান ২৫ এবং শুকলা ২৮ রান করে আউট হন। তবে এই জুটির পর আবারও ছন্দ হারায় ওমানের ইনিংস। দলীয় ৭৬ রানের মধ্যেই এই দুই ব্যাটারের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে।

নিচের দিকে নাদিম খান ২০ রানের একটি ছোট ইনিংস খেললেও তাতে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৯.৫ ওভারে ১০৩ রানে অলআউট হয় ওমান। পুরো ইনিংসে জিম্বাবুয়ের বোলাররা লাইন-লেন্থে শৃঙ্খলিত ছিলেন এবং প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। ব্লেসিং মুজারাবানি ৪ ওভারে ১৬ রানে ৩ উইকেট নেন। সমানসংখ্যক উইকেট নেন রিচার্ড এনগারাভা (১৭ রান) ও ব্র্যাড ইভান্স (১৮ রান)। তিন পেসারের এই সমন্বিত পারফরম্যান্সই মূলত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। দলীয় ৩০ রানের মধ্যে দুই ওপেনার সাজঘরে ফেরায় সম্ভাব্য অঘটনের আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলর ও তরুণ ব্রায়ান বেনেট দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। তৃতীয় উইকেটে তারা ৫৬ বলে ৬৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে জিম্বাবুয়ের জয়কে অনেকটাই নিশ্চিত করে দেন।

টেইলর ৩০ বলে ৩১ রান করে খেলার সময় আহত হলে দলের জয়ের মাত্র ৬ রান বাকি থাকতে অবসর নেন। তার ইনিংসে ঝুঁকি কম নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রান তোলার কৌশল দেখা যায়। অন্যদিকে ব্রায়ান বেনেট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি ৩৬ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয়ের ভিত শক্ত করেন।

টেইলরের পরিবর্তে ব্যাটিংয়ে নামা সিকান্দার রাজা বেনেটের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থেকে জয় নিশ্চিত করেন। রাজা ৫ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে জিম্বাবুয়ের লাগে মাত্র ১৩.৩ ওভার, হাতে থাকে ৩৯ বল।

পুরো ম্যাচে ধারাবাহিক বোলিং ও পরিকল্পিত ব্যাটিংয়ের কারণে জিম্বাবুয়ের জয় ছিল নিয়ন্ত্রিত ও প্রত্যাশিত। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ব্লেসিং মুজারাবানি, যিনি শুরুতেই ওমানের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। এই জয়ের মাধ্যমে ‘বি’ গ্রুপে শক্ত অবস্থান তৈরি করল জিম্বাবুয়ে, যা পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ