আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভৌগোলিক অবস্থান ও দিনের দৈর্ঘ্যের ভিন্নতার কারণে ২০২৬ সালের রমজানে রোজার সময় একরকম হবে না। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছর রমজান শুরু হতে পারে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে। এ সময় সূর্যের অবস্থান তুলনামূলকভাবে দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে থাকায় উত্তর গোলার্ধের অনেক দেশে রোজার সময় আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে। ফলে বিশ্বের বহু অঞ্চলের মুসলমানদের জন্য রমজান অপেক্ষাকৃত স্বস্তিদায়ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রমজান শুরু হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি। তবে ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে কোনো কোনো দেশে একদিন আগেই রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি চাঁদ দেখা কমিটি চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে। বরাবরের মতোই, দেশভেদে রমজানের শুরু একদিন এদিক-সেদিক হতে পারে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করতে হয়। এই সময়কাল নির্ভর করে দিনের দৈর্ঘ্যের ওপর, যা অক্ষাংশ, ঋতু ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পরিবর্তিত হয়। নিচে অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাব্য রোজার সময় তুলে ধরা হলো।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রোজার সময় সাধারণত মাঝারি পর্যায়ের হয়ে থাকে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২৬ সালের রমজানের প্রথম দিকে রোজার সময় প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪৫ থেকে ১২ ঘণ্টা ৫০ মিনিট হতে পারে। সৌদি আরবে এটি প্রায় ১২ ঘণ্টা ৫০ মিনিট থেকে ১৩ ঘণ্টার কাছাকাছি থাকতে পারে। কাতার ও কুয়েতে রোজার সময় প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট থেকে ১৩ ঘণ্টা হতে পারে। ওমান ও বাহরাইনেও প্রায় একই রকম সময় ধরে সিয়াম পালন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে দিনের দৈর্ঘ্য তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি হওয়ায় রোজার সময়ও প্রায় একই রকম হতে পারে। বাংলাদেশে ২০২৬ সালের রমজানে রোজার সময় আনুমানিক ১৩ ঘণ্টা থেকে ১৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মধ্যে থাকতে পারে। ভারতে এটি অঞ্চলভেদে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৫০ মিনিট থেকে ১৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট হতে পারে। পাকিস্তানে রোজার সময় প্রায় ১৩ ঘণ্টার কাছাকাছি এবং শ্রীলঙ্কায় আনুমানিক ১২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট থেকে ১২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট হতে পারে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিষুবীয় অঞ্চলে রোজার সময় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। ইন্দোনেশিয়ায় রোজার সময় প্রায় ১২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট থেকে ১২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট হতে পারে। মালয়েশিয়ায় এটি প্রায় ১২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের কাছাকাছি এবং থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলেও প্রায় একই সময় ধরে রোজা পালিত হতে পারে।
আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে উত্তর আফ্রিকায় রোজার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। মিসরে ২০২৬ সালের রমজানে রোজার সময় আনুমানিক ১২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট থেকে ১৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট হতে পারে। মরক্কো ও আলজেরিয়ায় এটি প্রায় ১৩ ঘণ্টার কাছাকাছি থাকতে পারে। অপরদিকে, কেনিয়া ও তানজানিয়ার মতো বিষুবরেখার নিকটবর্তী দেশে রোজার সময় সাধারণত ১২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট থেকে ১২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
ইউরোপের দেশগুলোতে রোজার সময়ের পার্থক্য বেশি লক্ষ করা যায়। যুক্তরাজ্যে ২০২৬ সালের রমজানে রোজার সময় প্রায় ১১ ঘণ্টা থেকে ১১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট হতে পারে। ফ্রান্স ও জার্মানিতে এটি প্রায় ১১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে থাকতে পারে। তবে নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের মতো উচ্চ অক্ষাংশের দেশগুলোতে রোজার সময় ১৫ ঘণ্টা থেকে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি হতে পারে। আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডের কিছু অঞ্চলে এটি ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে দিনের দৈর্ঘ্য তুলনামূলকভাবে কম থাকায় রোজার সময়ও স্বল্প হয়। ব্রাজিলে রোজার সময় প্রায় ১১ ঘণ্টা থেকে ১১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট হতে পারে। আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়েতে এটি প্রায় ১১ ঘণ্টার কাছাকাছি এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় আনুমানিক ১১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট থেকে ১২ ঘণ্টা হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কিছু অঞ্চলেও রোজার সময় প্রায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালের রমজানে বিশ্বের অনেক দেশে রোজার সময় তুলনামূলকভাবে কম বা মাঝারি পর্যায়ের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে সিয়াম পালনের সময় শারীরিকভাবে তুলনামূলক সহনীয় হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করবে চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় ভৌগোলিক বাস্তবতার ওপর।


