খেলাধূলা ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ের মধ্য দিয়ে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে কানাডাকে ৫৭ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করে প্রোটিয়ারা। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে তারা।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। উদ্বোধনী জুটিতে কুইন্টন ডি কক ও অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম দলকে শক্ত ভিত এনে দেন। দুই ওপেনার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন এবং মাত্র কয়েক ওভারের মধ্যেই রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন। তাদের জুটিতে আসে ৭০ রান, যা বড় স্কোর গড়ার ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
অধিনায়ক মারক্রাম এক প্রান্ত আগলে রেখে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ইনিংস খেলেন। তিনি ৩২ বলে ৫৯ রান করে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তার ইনিংসে ছিল বেশ কয়েকটি বাউন্ডারি ও ছক্কা, যা কানাডার বোলারদের ওপর চাপ বাড়ায়। ডি কক আউট হলেও মারক্রাম ব্যাটিংয়ের ছন্দ ধরে রাখেন এবং মিডল অর্ডারের জন্য শক্ত মঞ্চ প্রস্তুত করে দেন।
ইনিংসের শেষ দিকে ডেভিড মিলার ও ত্রিস্তান স্টাবস দ্রুত রান সংগ্রহ করেন। তাদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম বড় দলীয় সংগ্রহের একটি। এই ম্যাচের মাধ্যমে প্রোটিয়ারা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার ২০০ বা তার বেশি রান করার রেকর্ডে পৌঁছে যায়, যা দলটির ব্যাটিং শক্তির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় কানাডা। ইনিংসের প্রথম বলেই অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার আউট হয়ে গেলে চাপ পড়ে দলটির ওপর। এরপর পাওয়ার প্লেতে কিছুটা রান তুলতে পারলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। টপ অর্ডারের চার ব্যাটার দ্রুত ফিরে গেলে লক্ষ্য তাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে।
যুবরাজ শার্মা ৮ বলে ১২, নিকোলাস কির্টন ৩ বলে ৪ এবং শ্রেয়াস মুভা ১১ বলে ৯ রান করে আউট হন। এতে মধ্যভাগে বড় জুটি গড়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। পঞ্চম উইকেটে নাভনিত ধালিওয়াল ও হার্শ ঠাকুর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তারা ৫২ বলে ৬৯ রান যোগ করে ম্যাচে টিকে থাকার চেষ্টা করেন।
হার্শ ঠাকুর ২৯ বলে ৩৩ রান করে আউট হলে এই জুটি ভেঙে যায়। এরপর আর কোনো ব্যাটারই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভারে কানাডার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫১ রানে, ফলে তারা ৫৭ রানে পরাজিত হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণে লুঙ্গি এনগিডি ছিলেন সবচেয়ে সফল। তিনি ৪ উইকেট শিকার করে কানাডার ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। মার্কো জেনসেন নেন ২টি উইকেট, আর কাগিসো রাবাদা ও কর্বিন বোশ নেন একটি করে উইকেট। অন্যদিকে কানাডার পক্ষে অঁশ প্যাটেল তিনটি উইকেট শিকার করে বোলিংয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।
এই জয়ের মাধ্যমে ‘ডি’ গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ব্যাটিংয়ে গভীরতা ও বোলিংয়ে বৈচিত্র্য তাদেরকে টুর্নামেন্টে সম্ভাব্য শক্তিশালী দল হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে কানাডার জন্য এটি ছিল অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের ম্যাচ, যেখানে তারা বড় দলের বিপক্ষে নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও উন্নতির জায়গাগুলো চিহ্নিত করার সুযোগ পেল।


