শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত

শিক্ষা ডেস্ক

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আপাতত এমপিওভুক্তির এই কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।’

চলতি বছরের ১৪ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেমন স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল। পরে এসব আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তবে নন-এমপিও মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির আবেদন প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় পূর্বে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা–২০২৫ এর নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির জন্য প্রাপ্ত আবেদনগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই মূল্যায়নের সময় এমপিওভুক্তির যোগ্যতা, আঞ্চলিক সাম্য এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে প্রথম ধাপে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন বিবেচনাযোগ্য হওয়ায় সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব নিরূপণ করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির বিষয়ে মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে অর্থ বিভাগের সম্মতি চেয়ে চিঠি প্রেরণ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ার স্থগিতাদেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা ও কর্মচারী বেতন প্রভাবিত করতে পারে। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি ভাতা ও বেতন প্রদানের সুবিধা পায়, যা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে স্থগিতাদেশের কারণে এই সুবিধা কিছু সময়ের জন্য স্থগিত থাকবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এমপিওভুক্তি শিক্ষার মান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। সরকারের এই পদক্ষেপ প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে উৎসাহিত করে এবং জাতীয় শিক্ষা নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

এদিকে, নন-এমপিও মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী সময়ে পৃথকভাবে বিজ্ঞপ্তি এবং নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এমপিওভুক্তির এই প্রক্রিয়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, আঞ্চলিক সাম্য ও আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। আগামী সময়ে প্রক্রিয়ার পুনরায় শুরু হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারি অর্থায়ন ও বেতন কাঠামোর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের সময় শিক্ষার্থীর সংখ্যা, শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামো ও অন্যান্য মানদণ্ড বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা ও সরকারি তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষা শীর্ষ সংবাদ