রাজনীতি ডেস্ক
তুরস্কের সাত সদস্যের একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। তুরস্কের পার্লামেন্টারি সদস্যদের নিয়ে গঠিত পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেন টার্কিশ বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারপার্সন মেহমেত আকিফ ইলমাজ।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সৌজন্য সাক্ষাৎটি কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, তুরস্কের পর্যবেক্ষক দলটি বাংলাদেশে চলমান বা আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে সফরে রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলগুলোর উপস্থিতি সাধারণত নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করা হয় এবং প্রয়োজন হলে গঠনমূলক মতামত তুলে ধরা হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়। আলোচনায় নির্বাচন পরিচালনার আইনগত কাঠামো, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ সম্পর্কিত বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
তুরস্কের পর্যবেক্ষক দলের প্রধান মেহমেত আকিফ ইলমাজ বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্য এবং পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের কাঠামো সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আন্তর্জাতিক নীতিমালার কথা উল্লেখ করেন। এ ধরনের সফর ও বৈঠক দুই দেশের সংসদীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে উভয় দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখে আসছে। সংসদীয় পর্যায়ে বন্ধুত্ব গ্রুপের কার্যক্রমের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় দুই দেশের সম্পর্ককে বহুমাত্রিক রূপ দিয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত এ সফর সেই সহযোগিতারই একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এমন বৈঠক নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়তা করে। এতে নির্বাচন আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও প্রস্তুতি সম্পর্কে পর্যবেক্ষকদের ধারণা স্পষ্ট হয়, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের পক্ষ থেকে নীতিগত অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।
সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ভবিষ্যতে সংসদীয় যোগাযোগ, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। সৌজন্য সাক্ষাৎটি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে গুরুত্ব বহন করে।


