রাজনীতি ডেস্ক
নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের চলমান প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, প্রকৃত গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে দলটি অনুশোচনামূলক অবস্থান নেয়নি কিংবা সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আগ্রহও দেখায়নি। ফলে বিদ্যমান বাস্তবতায় নতুন রাজনৈতিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কমনওয়েলথের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনকালীন পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
ড. আসিফ নজরুল জানান, মতবিনিময় সভায় কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দল মূলত নির্বাচন ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ এবং সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। এ সময় তিনি প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেন যে, বহু বছর পর বাংলাদেশ একটি সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাবে এবং দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক চর্চা পুনরুজ্জীবিত হবে।
আওয়ামী লীগের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলটির কোনো নেতার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অনুশোচনামূলক বক্তব্য বা অতীতের রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে আত্মসমালোচনামূলক অবস্থান দেখা যায়নি। একই সঙ্গে চলমান সংস্কার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনর্গঠনে তাদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণের সদিচ্ছাও প্রকাশ পায়নি। এই প্রেক্ষাপটে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রক্রিয়ায় দলটিকে অন্তর্ভুক্ত করা বাস্তবসম্মত নয় বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হবেন, তাদের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বর্তাবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজ হবে চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি জুলাই মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের ত্যাগের কথা স্মরণ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, তাদের আত্মত্যাগ যেন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ড. আসিফ নজরুল বলেন, এবারের নির্বাচনে নারী ভোটার ও নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হবে বলে তিনি আশা করছেন। তাঁর মতে, নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার মতো কোনো পরিবেশ বর্তমানে নেই; বরং রাজনৈতিক পরিসর আরও উন্মুক্ত হওয়ায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী শাসনামলে ধর্মীয় পরিচয় বা পোশাকের কারণে অনেক নারী হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে এবং নারীরা আরও নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবেন।
মতবিনিময় সভার সার্বিক বিষয়ে তিনি জানান, কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছে। তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণমূলক চরিত্র এবং গণতান্ত্রিক মানদণ্ড বজায় রাখার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। ড. আসিফ নজরুল বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের পর্যবেক্ষণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করবে।


