শিক্ষা ডেস্ক
৫০তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রিলিমিনারি পরীক্ষা–২০২৫-এর ফলাফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে মোট ১২ হাজার ৩৮৫ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করা হয়।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছিলেন মোট ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন উত্তীর্ণ প্রার্থীরা। গত ৩০ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য সাতটি বিভাগীয় শহরের ১৯০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে এই প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষাটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
৫০তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে মোট ২ হাজার ১৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পিএসসি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে। মোট ক্যাডার পদের মধ্যে ৬৫০টি পদ স্বাস্থ্য ক্যাডারের জন্য নির্ধারিত রয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে বড় একটি সংখ্যা। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট জনবলের চাহিদা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন এবং পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগের সুপারিশ করা হবে। অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসেও শূন্য পদের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। নন-ক্যাডার পদেও নির্ধারিত সংখ্যক প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা পরবর্তী ধাপে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। পিএসসি জানিয়েছে, লিখিত পরীক্ষার তারিখ ও বিস্তারিত সময়সূচি যথাসময়ে কমিশনের ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। সাধারণত প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কয়েক মাসের মধ্যেই লিখিত পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। এরপর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়।
বিসিএস পরীক্ষা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ পরীক্ষাগুলোর একটি। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের আশায় এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য ক্যাডার তরুণ প্রার্থীদের কাছে সবচেয়ে বেশি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে। ৫০তম বিসিএসেও বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর অংশগ্রহণ সেই আগ্রহেরই প্রতিফলন।
শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, স্বাস্থ্য ক্যাডারে বড় পরিসরে নিয়োগ দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারে নতুন কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তারা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে প্রস্তুতি জোরদার করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই এখন লিখিত পরীক্ষার জন্য বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, নোট তৈরি এবং মডেল টেস্টে অংশগ্রহণে মনোযোগ দিচ্ছেন। পিএসসি কর্তৃপক্ষ প্রার্থীদের নির্ধারিত পাঠ্যসূচি ও নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
৫০তম বিসিএসের পরবর্তী ধাপগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


