ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন

বাংলাদেশ ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মাঠ প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্য দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে নির্বাচনসংক্রান্ত প্রশাসনিক তৎপরতা সমন্বয় এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে মাঠ প্রশাসন থেকে যেসব অভিযোগ, তথ্য বা প্রতিবেদন আসবে, সেগুলোর ভিত্তিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যেই এ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভবন নম্বর–১-এর কক্ষ নম্বর ১৮০২-এ কন্ট্রোল রুমটি স্থাপন করা হয়েছে। এ কন্ট্রোল রুমের জন্য একটি নির্দিষ্ট টেলিফোন নম্বরও নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। নির্ধারিত নম্বরটি হলো +৮৮০২২২৬৬৪১১১৮। কন্ট্রোল রুমটি নির্বাচনকালীন সময়ে সার্বক্ষণিকভাবে সচল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠ প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ বা তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। এ ক্ষেত্রে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন অথবা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

নির্বাচনকালীন সময়ে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে নির্বাচন পরিচালনায় জটিলতা দেখা দিতে পারে। সে বিবেচনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম মাঠ পর্যায়ের সমস্যা দ্রুত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে উপস্থাপন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্বাচন ও গণভোটের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। মাঠ প্রশাসন থেকে আসা অভিযোগ বা তথ্য যদি সময়মতো নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ, যাচাই ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা থাকলে প্রশাসনিক দুর্বলতা কমানো সম্ভব হবে।

এছাড়া, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রশাসনিক অনিয়ম, দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা নিরাপত্তা ঝুঁকি সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। এ জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কন্ট্রোল রুমকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। কন্ট্রোল রুম স্থাপনের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ উদ্যোগ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা রক্ষা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ