অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তি এসেছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, আদানির একটি ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ২৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউনিটটি সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পুনরায় চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে আসন্ন নির্বাচনের সময় সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই ইউনিটটি চালু করা হয়।
বিপিডিবি জানায়, রক্ষণাবেক্ষণকালীন সময়ে আদানির অপর ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটি সচল ছিল এবং সেখান থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়। প্রথম ইউনিট পুনরায় চালু হওয়ায় বর্তমানে দুটি ইউনিট মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহের কারণে পূর্ণ ক্ষমতার পরিবর্তে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভোটকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে যেকোনো ঘাটতি এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আমদানি করা বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদানির দুটি ইউনিট পুনরায় চালু হওয়ায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে তারা মনে করছেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আদানি গ্রুপের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। কেন্দ্রটি মূলত বাংলাদেশের চাহিদা বিবেচনায় স্থাপন করা হয়েছে এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে যখন দেশীয় গ্যাসভিত্তিক ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ তৈরি হয়, তখন এই আমদানিকৃত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীত মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও নির্বাচন, শিল্প উৎপাদন এবং নগর এলাকায় বর্ধিত ব্যবহার বিবেচনায় নিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা প্রয়োজন। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আগেভাগে শেষ হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বাড়তি বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে, যা লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।
বিপিডিবি সূত্র আরও জানায়, আগামী দিনগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী দেশীয় কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন সমন্বয় এবং আমদানিকৃত বিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, আদানির দুটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে নির্বাচনকালীন সময়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে।


