রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার একদিন আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান তাঁর দায়িত্বকাল, অভিজ্ঞতা এবং মূল্যায়ন তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শেষ কার্যদিবস সম্পন্ন করার কথা জানান এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ফাওজুল কবির খান তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে মঙ্গলবার তাঁর শেষ কার্যদিবস ছিল। তবে আইনগতভাবে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়া পর্যন্ত তিনি উপদেষ্টা পদে বহাল থাকবেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নৈতিক বিবেচনায় তিনি আর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন না। তাঁর এই অবস্থানকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পোস্টে তিনি জাতির সেবায় কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। এ জন্য তিনি সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সময় যাঁরা তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন—সচিববৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তর ও রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, তাঁদের সহযোগিতা ও সমর্থন ছাড়া দায়িত্ব পালন সম্ভব হতো না।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে এই খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং খনিজ সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। দায়িত্ব পালনকালে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা এবং বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নির্বাচনের প্রাক্কালে দেওয়া বক্তব্যে ফাওজুল কবির খান নতুন সরকারের জন্য শুভকামনা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, সহিংসতামুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর মতে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে একাধিকবার তিনি বলেছেন—যে দল বা জোটই নির্বাচনে বিজয়ী হোক না কেন, জাতি হিসেবে সবাইকে তাদের পেছনে দাঁড়াতে হবে। তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের ভূমিকা নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার সঙ্গে যুক্ত।
ফাওজুল কবির খানের বক্তব্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়বেলার একটি আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন হিসেবেও দেখা যাচ্ছে। তাঁর ঘোষিত অবস্থান অনুযায়ী, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তিনি কোনো নির্বাহী সিদ্ধান্তে যুক্ত না থেকে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন রাখতে আগ্রহী। নতুন সরকার গঠনের পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের ওপর বর্তাবে।


