জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভাষণটি আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রেকর্ড করা হয়েছে এবং আজ সন্ধ্যায় একযোগে সম্প্রচার করা হবে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতার মাধ্যমে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলকভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে কমিশন যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, ভাষণে সেসব বিষয় জাতির সামনে উপস্থাপন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। একই সঙ্গে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করাই এ ভাষণের মূল উদ্দেশ্য।
ইসি সূত্র অনুযায়ী, ভাষণে নির্বাচন আয়োজনের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি, নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণের অগ্রগতি এবং সারাদেশে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। বর্তমানে সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেশব্যাপী প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর পাশাপাশি নির্বাচনি পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হবে ভাষণে। কমিশনের তথ্যমতে, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং নির্দিষ্ট এলাকায় আকাশপথে নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভোটারদের আস্থা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। সে লক্ষ্য সামনে রেখে সিইসি ভাষণে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাবেন। কমিশনের মতে, ভোটার উপস্থিতি একটি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও বৈধতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই ভোটাররা যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা বাধার সম্মুখীন না হন, সে বিষয়ে কমিশন ও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ভাষণে নির্বাচনি আইন ও আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচনি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হবে। নির্বাচন কমিশন মনে করে, সব পক্ষের সহযোগিতা ছাড়া একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। এ কারণে কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং আইনের সমান প্রয়োগের নীতির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হবে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন আয়োজন ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে থাকে। প্রতিটি নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষণ একটি নিয়মিত প্রথা, যার মাধ্যমে কমিশন জনগণকে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি, দায়িত্ব ও প্রত্যাশা সম্পর্কে অবহিত করে।
এবারের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কমিশন প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানা গেছে। ভাষণের মাধ্যমে এসব উদ্যোগের সার্বিক চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি কমিশনের দৃঢ় অবস্থান ও দায়িত্বশীলতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে।


