আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গুলিতে নিহত হয়েছেন ব্রিটিশ নাগরিক লুসি হ্যারিসন (২৩)। স্থানীয় পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত তরুণীর সঙ্গে তার বাবার রাজনৈতিক মতবিরোধ থেকে ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে। লুসি যুক্তরাজ্যের চেশায়ারের ওয়ারিংটনের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সূত্রে জানা যায়, লুসি ১০ জানুয়ারি ডালাসের কাছে প্রস্পার এলাকায় বাবার বাড়িতে বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুসারে, ঘটনার দিন লুসি ও তার বাবা ক্রিস হ্যারিসনের মধ্যে তীব্র তর্ক হয়। এই তর্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রসঙ্গে কেন্দ্রিত ছিল।
লুসির প্রেমিক স্যাম লিটলার আদালতে সাক্ষ্য দেন যে, তর্ক চলাকালীন লুসি তার বাবাকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন। পুলিশি নথি অনুযায়ী, ক্রিস হ্যারিসন ওই সময় মদ্যপ ছিলেন এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতেন। আদালতে তিনি স্বীকার করেন যে, আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ঘটনার সময় লুসি রান্নাঘরে ছিলেন এবং পরে তাকে বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শোনা যায়। ঘরে ঢুকে লুসির প্রেমিক তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন, পাশে ছিলেন তার বাবা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, লুসি ছোটবেলায় বাবার অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে যুক্তরাজ্য ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসেছিলেন। পারিবারিক সম্পর্ক অতীতেও টানাপোড়েনপূর্ণ ছিল। লুসির মা আদালতে জানান, তার মেয়ে ছিল সহানুভূতিশীল এবং চিন্তাশীল, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আগ্রহী ছিলেন, এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজস্ব মত প্রকাশ করতেন।
মানবাধিকারকর্মীরা ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা ও পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে নতুনভাবে প্রশ্ন তোলার প্রসঙ্গ হিসেবে দেখেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, ব্যক্তিগত মতবিরোধ এবং রাজনৈতিক আলোচনার উত্তেজনা কখনো কখনো পারিবারিক সংঘর্ষের তীব্র রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন ও তদন্তকারীরা বলেছেন, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত কিনা তা নির্ধারণের জন্য বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে উদ্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আদালতে ক্রিস হ্যারিসনের বিরুদ্ধে আদালতি প্রক্রিয়া চলছে এবং তার বিরুদ্ধে আদালতে দায়সারা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনায় নৃশংস পারিবারিক সহিংসতা ও রাজনৈতিক মতবিরোধের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক আলোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে রাজনৈতিক এবং সামাজিক চাপের সংযোগ কখনো কখনো মারাত্মক ঘটনার রূপ নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যু হিসেবে প্রাসঙ্গিক হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পারিবারিক সহিংসতা ও আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালার আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনার তদন্ত এবং পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।


