ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ; গাজীপুর-২ এ সর্বাধিক, ঝালকাঠি-১ এ সর্বনিম্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ; গাজীপুর-২ এ সর্বাধিক, ঝালকাঠি-১ এ সর্বনিম্ন

জাতীয় ডেস্ক
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভোটারসংখ্যার দিক থেকে সর্বাধিক ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ সংসদীয় আসনে এবং সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে।

ইসির তথ্য অনুসারে, গাজীপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। শিল্পঘন ও জনবহুল এলাকা হিসেবে পরিচিত এই আসনে ভোটারসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেশি থাকছে। অপরদিকে ঝালকাঠি-১ আসনে ভোটার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম; সেখানে মোট ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং অভিবাসনের মতো বিভিন্ন কারণে আসনভেদে ভোটারসংখ্যায় এই পার্থক্য দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ভোটারদের লিঙ্গভিত্তিক বিভাজনেও উল্লেখযোগ্য চিত্র উঠে এসেছে। মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। অর্থাৎ পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখের বেশি। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নিয়মিত হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য, নতুন ভোটার নিবন্ধন এবং স্থানান্তরের তথ্য যুক্ত করে তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়। এর ফলে সামগ্রিকভাবে ভোটারসংখ্যা ও লিঙ্গভিত্তিক অনুপাতের এই চিত্র পাওয়া গেছে।

দেশব্যাপী ৩০০ আসনে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গণভোটে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও একই ভোটার তালিকা প্রযোজ্য হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ভোটারসংখ্যার এই পরিসংখ্যান নির্বাচন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বেশি ভোটার থাকা আসনগুলোতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা, ব্যালট পেপার, ভোটকক্ষ এবং নির্বাচনী কর্মকর্তার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ধারণ করা হয়। একইভাবে কম ভোটার থাকা আসনগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্র ও জনবল নির্ধারণ করা হয়, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি হওয়া রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক নির্দেশ করে। নির্বাচনে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি প্রণয়নের সময় নারী ভোটারদের চাহিদা ও প্রত্যাশা বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি ভোটার তালিকায় সামাজিক অন্তর্ভুক্তির দিক থেকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ভোটারদের নির্ধারিত দিনে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভোটগ্রহণ চলাকালে যে কোনো অনিয়ম বা সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে ভোটারদের অনুরোধ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ