জাতীয় ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে নারীদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। আজ ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ সবার মৌলিক অধিকার এবং এর মধ্যে নারী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষদের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নারীদের এবং সংখ্যালঘু ও লিঙ্গভিত্তিক সংরক্ষিত সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করা কোনো ধরনের কার্যক্রম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
জাতিসংঘের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রকারের সহিংসতা এবং হয়রানি ঘটছে। এর মধ্যে রয়েছে সাইবার বুলিং, ডিপফেক কনটেন্ট, পরিকল্পিত হয়রানি, ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে অপব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট প্রকাশ। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে নারী ভোটার, প্রার্থী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন এবং নাগরিক সমাজ, নারী সংগঠন ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে এই ইস্যুগুলো মোকাবেলায় কাজ করছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে নারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বৈষম্য বা সহিংসতামূলক ঘটনা যেন না ঘটে। এর পাশাপাশি ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সব অংশীদারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ করা না গেলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্থায়িত্ব এবং নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা শুধুমাত্র লিঙ্গ সমতার বিষয় নয়, এটি ভোটের ফলাফলের প্রতি মানুষের আস্থা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাতিসংঘের এই আহ্বান নির্বাচনী পরিবেশকে নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের এই নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা, রাজনৈতিক দল, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এটি নারীদের ভয়মুক্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং ভোট দেওয়ার সময় তাদের প্রতি সম্ভাব্য হুমকি দূর করতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশে নারীদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংস্থা, নারী অধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তারা সচেতনতামূলক কর্মসূচি, নিরাপদ ভোট কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, এবং অনলাইন ও অফলাইন সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জাতিসংঘের এই আহ্বান এসব প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নজরদারি বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা বৃদ্ধিও জাতিসংঘের সুপারিশের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
জাতিসংঘের এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন এবং নাগরিক সমাজকে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য রোধে এক সুসংগত এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণের বিস্তার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী করার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


