তারেক রহমান ও বিএনপিকে ঘিরে সর্বাধিক গুজব শনাক্ত: ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদনে উদ্বেগ

তারেক রহমান ও বিএনপিকে ঘিরে সর্বাধিক গুজব শনাক্ত: ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদনে উদ্বেগ

 

রাজনীতি ডেস্ক

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুজব ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে বলে এক ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তি পর্যায়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দল হিসেবে বিএনপি সবচেয়ে বেশি গুজবের শিকার হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে মোট ১৩৩টি এবং দল হিসেবে বিএনপির বিরুদ্ধে ৩৬০টি গুজব শনাক্ত করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সময়কালে সর্বোচ্চ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশে গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু বহির্ভূত উৎস থেকে পরিচালিত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। এতে ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা লক্ষ্য করা যায়।

ফ্যাক্ট-চেকিং বিশ্লেষণে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ রাষ্ট্র, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সাম্প্রতিক খাগড়াছড়ি-সংক্রান্ত বিষয়াবলি এবং চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দল ও সংগঠনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্যের প্রবাহ বেড়েছে। এসব তথ্যের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বিভ্রান্তি ও ভুল ধারণা তৈরি করছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্যক্তি পর্যায়ে গুজবের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তারেক রহমানের নাম সবচেয়ে বেশি এসেছে। তার বিরুদ্ধে ছড়ানো তথ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বক্তব্য বিকৃতি, ভুয়া নথি, পুরোনো ঘটনার নতুন ব্যাখ্যা এবং অসত্য অভিযোগ। দল হিসেবে বিএনপিকেও একইভাবে বিভিন্ন ভুয়া দাবি, ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব গুজবের একটি অংশ সমন্বিতভাবে ছড়ানো হয়, যা স্বতঃস্ফূর্ত ভুল তথ্যের চেয়ে সংগঠিত অপপ্রচারের ইঙ্গিত দেয়।

ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদনে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করে সেগুলোর প্রকৃত তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে আংশিক সত্য, পুরোনো ছবি বা প্রেক্ষিতবিচ্যুত ভিডিও ব্যবহার করা হয়েছে। এসব কৌশল সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে গুজব ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জনআস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচন, রাজনৈতিক আন্দোলন ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি জোরদার করা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও ইঙ্গিত করে যে, গুজব প্রতিরোধে কেবল ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়; বরং নাগরিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সাক্ষরতা উন্নয়ন এবং প্ল্যাটফর্মভিত্তিক নীতিমালার কার্যকর প্রয়োগ জরুরি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল, নেতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পক্ষ থেকেও যাচাইহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সার্বিকভাবে প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের অনলাইন তথ্যপরিবেশে গুজব ও ভুয়া তথ্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ব্যক্তি ও দলকে কেন্দ্র করে এসব অপপ্রচার শুধু রাজনৈতিক বিতর্ককে তীব্র করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং দায়িত্বশীল সংবাদ ও তথ্য ব্যবহারের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ