জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগ্রহন শুরু হয়েছে। এ সময় ঢাকা-৯ আসনের খিঁলগাও মডেল কলেজ কেন্দ্রেও ভোটারদের উৎসবমুখর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬০ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৩ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৮২ জন।
এ আসনে ভোট দিতে উপস্থিত হয়েছেন ১১০ বছর বয়সী জমিরন নেসা। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে থাকলেও তিনি মেয়ে ও নাতির সঙ্গে ভোট কেন্দ্রে পৌঁছান এবং নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘ভোট দিতে পারায় আমি সন্তুষ্ট। এ বয়সেও আল্লাহ আমাকে ভোট কেন্দ্রে আনতে সাহায্য করেছেন।’ জমিরন নেসা আরও বলেন, বয়সের কারণে পুরোপুরি দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হলেও কোনো সমস্যা ছাড়াই ভোট দিতে সক্ষম হয়েছেন।
ঢাকা-৯ আসনটি খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা এলাকার মধ্যে গঠিত। আসনে মোট একাধিক রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছেন হাবিবুর রশিদ হাবিব। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা, জাতীয় নাগরিক পার্টির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ ইফতেখার আহসান, জাতীয় পার্টির কাজী আবুল খায়ের, গণফোরামের নাজমা আক্তার, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের খন্দকার মিজানুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শাহীন খান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাসুদ হোসেন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ-এর মোহাম্মদ শফি উল্লাহ চৌধুরী এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের নাহিদ হাসান চৌধুরী জুনায়েদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঢাকা-৯ আসনে ভোটগ্রহনের প্রক্রিয়া সকাল ৮টায় শুরু হয় এবং বিভিন্ন কেন্দ্রের জন্য ভোটার উপস্থিতি সকাল থেকে ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করা গেছে। ভোটারদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি নির্বাচনের প্রতি সাধারণ জনগণের আগ্রহ ও অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, বয়সে প্রবীণ হলেও ভোটাধিকার প্রয়োগে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের উপস্থিতি নির্বাচনকে জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্য ও সমানাধিকার ভিত্তিক হিসেবে চিহ্নিত করছে। এটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বও প্রতিফলিত করছে।
ঢাকা-৯ আসনের ভোটার সংখ্যা এবং প্রার্থীদের বৈচিত্র্য থেকে দেখা যায়, এই আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং যে কোনো ফলাফল জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রভাবশালী হতে পারে। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া, ভোটারদের নিরাপত্তা ও কেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে। ভোটপ্রয়োগ কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের জন্য স্বচ্ছতা ও সহজসুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা-৯ আসনে ভোটগ্রহণের এই প্রক্রিয়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকরা যাতে বাধাহীনভাবে ভোট দিতে পারেন তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত।


