ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন বলছে, জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন বলছে, জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

রাজনীতি ডেস্ক

বাংলাদেশে চলমান জাতীয় নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট গণভোট পর্যবেক্ষণ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম)। মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেছেন, চলমান ভোটগ্রহণের দিনটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ইইউ পর্যবেক্ষক দল সারাদেশে ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ভোটগ্রহণ শুরুর পর রাজধানীর নিউ বেইলি রোডের সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ইভার্স ইজাবস সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া—কেন্দ্র খোলা থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ, কেন্দ্র বন্ধ করা এবং পরবর্তী সময়ে ব্যালট গণনা ও ফলাফল প্রস্তুত—সব ধাপই পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে।

ইভার্স ইজাবস বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া অংশগ্রহণমূলক, নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশে কাজ করছে। ভোটগ্রহণ চলাকালীন সময়ে পাওয়া তথ্যের পাশাপাশি দিন শেষে ভোট গণনার সময়কার কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করা হবে। এসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নির্বাচন সংক্রান্ত একটি নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন প্রস্তুত করা হবে বলে জানান তিনি।

ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক আরও জানান, বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও প্রাথমিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। পর্যবেক্ষণের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে রাজধানীর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতেও ইইউ পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত রয়েছেন।

নির্বাচন উপলক্ষে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় মোট ৯০ জন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। এসব পর্যবেক্ষক ভোটগ্রহণের দিন বিভিন্ন সংসদীয় আসনের শহর ও গ্রামীণ ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তারা ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, ভোটারদের উপস্থিতি, ভোটগ্রহণের পদ্ধতি এবং আইন ও বিধিমালার অনুসরণসহ নানা বিষয় পর্যবেক্ষণ করছেন।

ইভার্স ইজাবস বলেন, স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষকরা সারাদিন ধরে কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং নিয়মিতভাবে সেসব তথ্য মিশনের সমন্বয় কাঠামোর মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। এই তথ্য ও প্রতিবেদনগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন তৈরিতে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষকরাও মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সব মিলিয়ে সারাদেশে ইইউ-এর প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন। তারা নির্বাচন-পূর্ব সময়, ভোটগ্রহণের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করছেন।

ইইউ ইওএম-এর দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়ন করা। কোনো পর্যায়ে তারা সরাসরি নির্বাচন পরিচালনায় যুক্ত হন না বা কোনো সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেন না। পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা পরে একটি বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন, যেখানে নির্বাচন সংক্রান্ত ইতিবাচক দিক, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের জন্য সুপারিশ তুলে ধরা হবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বিভিন্ন দেশে নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে থাকে। বাংলাদেশেও তারা নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ও নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চলমান জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের এই কার্যক্রম নির্বাচন প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মূল্যায়নের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ