রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকা-৯ আসনে আজ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটারদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে বয়স্ক ও দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত ভোটারদের উপস্থিতি ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে।
মানিক নগর মডেল হাই স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন ৭০ বছর বয়সী ওসমান গনি। শারীরিকভাবে চলাচলে প্রায় অক্ষম হলেও তিনি দুই স্বজনের সহায়তায় কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারার অভিজ্ঞতা তাকে এবার কেন্দ্রে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছে। প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে তাকে ব্যালট কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তিনি ভোট দেন।
ওসমান গনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি। অতীতে ভোটের দিন কেন্দ্রে এসে নিজের ভোট ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য জানতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিজ্ঞতার পরও এবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ভোটকেন্দ্রে সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ থাকায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা ভোটারদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হুইলচেয়ার, স্বেচ্ছাসেবক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসব ভোটারকে কেন্দ্রে প্রবেশ ও ভোটদান প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ভোটারের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে মানিক নগর এলাকার আরেক ভোটার আল আমিন আহমেদ বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে ভোট দিতে দেশে ফেরেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। ভোটের দিন নিজের এলাকায় উপস্থিত থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করাকে তিনি নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। ভোট দিতে এসে তিনি এলাকার পরিচিতজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ভোটগ্রহণের পরিবেশ সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আল আমিন আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন পর এমন একটি নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছেন, যেখানে ভোটারদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং ব্যবস্থাপনার দিকগুলো তাকে আশ্বস্ত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ভোট উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়ে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-৯ আসনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক পর্যবেক্ষণ দল কাজ করছে এবং যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বয়স্ক ভোটার ও প্রবাসফেরত ভোটারদের উপস্থিতি নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থার একটি ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে যারা অতীতে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের নির্বাচন ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
ঢাকা-৯ আসনের ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হবে এবং ভোটারদের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে চূড়ান্ত ফলাফলে।


