রাজনীতি ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, চলমান জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি ভোটারদের দ্রুত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের দাবি করেন, সারা দেশে নির্বাচনী পরিবেশ প্রাণবন্ত ও সর্বজনীন। বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, সাধারণ ছুটির ঘোষণার ফলে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া সহজ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে ভোটারদের সারিবদ্ধভাবে কেন্দ্রে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াতের এ নেতা জানান, জাতীয় সংসদের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এসব আসনে মোট ২৯৯ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন শেষে ফলাফল রাতেই বা পরদিন ঘোষণা করা হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে দেশের সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
গণভোট প্রসঙ্গে জুবায়ের ভোটারদের নির্দিষ্ট প্রস্তাবের পক্ষে মত দেওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পরিবর্তন রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—উভয় প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এবারের ভোটে অংশগ্রহণের মাত্রা বেশি। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। নারী ভোটারদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে জুবায়ের অভিযোগ করেন, ভোলা, কুমিল্লা, বরগুনা ও নোয়াখালীর কয়েকটি কেন্দ্রে দলীয় নেতা ও এজেন্টরা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সার্বিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে জুবায়ের নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। প্রতি পাঁচ বছর পরপর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে গণভোটের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বা সাংবিধানিক বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়, যা রাজনৈতিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভোটের সার্বিক পরিবেশ, ভোটার উপস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ফলাফল প্রকাশ—সবকিছু মিলিয়ে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হয়। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে সংসদ ও গণভোট—উভয় প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করা হবে।


