রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোট প্রদান করেছেন। আজ তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনী আইনের বিধান অনুসারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেন।
চট্টগ্রাম-১৪ সংসদীয় আসনটি চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে এবারের নির্বাচনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে বিএনপি, এলডিপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী ফ্রন্ট, ইনসানিয়াত বিপ্লব এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এছাড়া বিএনপির দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, যা আসনটির প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে।
নির্বাচনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং ভোটারদের উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভোটারদের পরিচয় যাচাই, ব্যালট প্রদান এবং গোপন ভোটকক্ষ ব্যবহারের মতো প্রক্রিয়াগুলো নির্বাচন বিধিমালা অনুসরণ করেই সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম চট্টগ্রাম-১৪ আসনে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি রাজনৈতিক নাম। তিনি ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা ছয়বার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন অবদান এবং পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে এলাকাটিতে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান। এবারের নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী না হলেও এলডিপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন তাঁর ছেলে মো. ওমর ফারুক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিকভাবে পরিচিত নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং পূর্বের সাংসদ হিসেবে অলি আহমদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এই আসনে এলডিপির নির্বাচনী কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে, একাধিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণের ফলে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি অতীতে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এ এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার বৈচিত্র্য এবং রাজনৈতিক সচেতনতা নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে সাধারণত ঘনিষ্ঠ করে তোলে। কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, প্রবাসী আয়ের প্রভাব এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন—এই বিষয়গুলো ভোটারদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশের মতো এই আসনেও ভোটারদের অংশগ্রহণ, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়াও কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে সম্পন্ন হবে।
এলডিপি সভাপতি হিসেবে অলি আহমদের ভোট প্রদান এবং তাঁর পরিবারের একজন সদস্যের প্রার্থিতা চট্টগ্রাম-১৪ আসনের নির্বাচনী চিত্রকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে এই আসনে ভোটারদের রায় প্রতিফলিত হবে এবং তা জাতীয় সংসদের গঠনে ভূমিকা রাখবে।


