সিলেট — জেলা প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট গণভোট গ্রহণের কার্যক্রম সিলেট জেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলমান রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে নগরের একাধিক ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সিলেট অঞ্চলে ভোটাররা সাধারণত সকালে কিছুটা দেরিতে কেন্দ্রে উপস্থিত হন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান ভোটার উপস্থিতিকে মোটামুটি ভালো হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সকালে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রসহ নগরের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে যান। এ সময় তিনি ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা, ব্যালট গ্রহণ ও প্রদানের প্রক্রিয়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটারদের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং প্রার্থীদের এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্রভিত্তিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন এবং তাঁদের কাছ থেকে ভোটগ্রহণ নিয়ে মতামত শোনেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ভোটগ্রহণ শুরুর পর কোনো বড় ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়বে। দিনের শেষে ভোটার উপস্থিতি ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের বেশি হতে পারে বলেও তিনি ধারণা দেন। তবে ভোটগ্রহণ চলমান অবস্থায় সামগ্রিক ভোটের হার এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সব পক্ষের দায়িত্বশীল ও সহনশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রার্থী, সমর্থক এবং ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। জনগণের ভোটে যিনি নির্বাচিত হবেন, সেই ফলাফল সবাইকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সিলেট জেলায় মোট ছয়টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব আসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটগ্রহণ শেষে ছয়জন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, ব্যালট পেপার বিতরণ, ভোটগ্রহণ, ব্যালট বাক্স সংরক্ষণসহ প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত বিধি ও আইন মেনে সম্পন্ন করা হচ্ছে। কোথাও কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেক ভোটারই জানান, সকালে কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে কিছুটা দেরিতে কেন্দ্রে আসছেন, তবে সুযোগ পেলেই ভোট দিতে আসছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুপুরের পর ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, সবার সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী। নির্বাচন শেষে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে। প্রশাসনের লক্ষ্য হচ্ছে—ভোটারদের আস্থা বজায় রেখে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।


