রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটাররা সকাল থেকে নির্বিঘ্নে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনে ভোটগ্রহণের হার ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলে জানা গেছে।
রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে দেশের ২৯৯টি আসনের সব ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং কোনো কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণে বিলম্ব হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ধানমন্ডির একটি কেন্দ্রে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে নিজে ভোট দিয়েছেন। সচিব জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্র থেকে তথ্য পাওয়া গেছে এবং তার ভিত্তিতে ভোটার উপস্থিতি হিসাব করা হয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, এবার তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতীতে প্রিজাইডিং অফিসারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহে কিছু সমস্যা থাকায় এবার সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, যার কারণে ফলাফল সংক্রান্ত লিড টাইম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময়ে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে কোন ভোট কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়নি এবং এসব ঘটনা এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে মেহেরপুরে ভোট শেষে ফেরার পথে এক মারামারির ঘটনা ঘটেছে, এতে দু’জন আহত হয়েছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
গতকাল ভোররাতে ময়মনসিংহের এক ভোট কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ইন্তেকাল করেন। সচিব তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং জানিয়ে দেন, সেখানে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে ভোট গ্রহণ স্বাভাবিকভাবে চলছে।
ইসি সচিব স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটদানের জন্য ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং যারা এখনো ভোট দেননি তাদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের জন্য আহ্বান জানান।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটারদের প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে ভোটগ্রহণে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি না হয়। এ ছাড়া, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষক এবং সাপোর্ট স্টাফরা ভোট কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটারের অংশগ্রহণের এই হার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকতা ও স্বচ্ছতার দিকে ইঙ্গিত করছে। পাশাপাশি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তথ্য সংগ্রহ ও তৎকালীন রিপোর্টিং প্রক্রিয়ার আধুনিকায়নও নির্বাচনী কার্যক্রমকে আরও নিরপেক্ষ ও দ্রুততর করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, যে কোনো ধরণের অসুবিধা বা অস্বাভাবিক ঘটনা সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কমিশনের কর্মকর্তারা যৌথভাবে ভোট কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।
শহর ও জেলা পর্যায়ে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে সচেতনতা কর্মসূচি ও তথ্য প্রচারের পাশাপাশি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রয়েছে। এতে ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন নিয়মিত ভিত্তিতে ভোটার উপস্থিতি, ভোটগ্রহণের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করছে। এই তথ্য দেশের নাগরিকদের কাছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হচ্ছে।


