ক্রীড়া প্রতিবেদক
আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হতে যাওয়া নারী এশিয়ান কাপে শিরোপা জিতে নতুন ইতিহাস গড়তে চায় জাপান নারী ফুটবল দল। দলের কোচ নিলস নিয়েলসেন বৃহস্পতিবার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন, যেখানে ইংল্যান্ডভিত্তিক ১৬ জন খেলোয়াড়কে রাখা হয়েছে।
জাপান এশিয়ার একমাত্র দেশ যারা নারী বিশ্বকাপ জিতেছে। তবে ২০ আসরের এশিয়ান কাপ খেলা জাপান শুধুমাত্র দু’বার শিরোপা জিতেছে। সর্বশেষ শিরোপা তারা জিতেছিল ২০১৮ সালে। এই ব্যর্থতার পরও জাপান নারী দলের গ্রিনল্যান্ডে জন্ম নেওয়া কোচ নিয়েলসেন মনে করেন, ২০২৬ সালের নারী এশিয়ান কাপ জাপানে জন্য নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ হতে পারে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া ৫৪ বছর বয়সী নিয়েলসেন বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে এই টুর্নামেন্ট জাপানের জন্য সহজ ছিল না। আমরা নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। আমাদের এমন একটি দল আছে যারা শিরোপা জিততে সক্ষম। তাই ট্রফি না জেতা পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট হতে পারছি না।”
২৬ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হিনাতা মিয়াজাওয়া, যিনি ২০২৩ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটির ইউই হাসেগাওয়া ও আওবা ফুজিনোও দলে রয়েছেন। ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য এবং ১৬৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ডিফেন্ডার সাকি কুমাগাইও এখনও দলে আছেন।
জাপানের ঘরোয়া ডব্লিউই লিগ থেকে মাত্র চারজন খেলোয়াড় দলে সুযোগ পেয়েছেন। নিয়েলসেন জানান, চোট-আঘাতের সমস্যা না থাকায় চূড়ান্ত দল নির্বাচন বিশেষ কঠিন ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি দল পেয়েছি যেখানে সব ধরনের বৈচিত্র্য আছে। প্রায় সব পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত। একই ধরনের অনেক খেলোয়াড় আমরা নেইনি। কারণ মাঠে কাউকে বদলি করলে আমরা ভিন্ন কিছু যোগ করতে চাই।”
প্রথম রাউন্ডে তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা জাপানকে এশিয়ান কাপের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে। নিয়েলসেন আশা প্রকাশ করেছেন, দল প্রতিপক্ষ যে কৌশলই গ্রহণ করুক না কেন, জাপানের স্কোয়াডের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দিয়ে তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।
জাপান নারী দলের লক্ষ্য কেবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নয়, বরং দীর্ঘদিনের শূন্যস্থান পূরণ করে শিরোপা জয় নিশ্চিত করা। দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা এবং বিদেশে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা জাপানের সাফল্যের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করছে। কৌশলগত বৈচিত্র্য এবং খেলোয়াড়দের সক্ষমতা নিয়েলসেনের পরিকল্পনাকে শক্তিশালী করছে, যা দলকে শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে রাখার মূল উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুরুর দিকে প্রতিযোগিতা জাপানের জন্য সহজ নাও হতে পারে, তবে কোচের মতে, দল প্রস্তুত এবং লক্ষ্য স্পষ্ট। এই পরিস্থিতি দলকে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে আরও উৎসাহিত করছে।
এই আসরে জাপান কেবল নিজের সক্ষমতা প্রমাণের পাশাপাশি এশিয়ার নারী ফুটবলের মানও তুলে ধরবে, যা ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় দলের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


