আইন আদালত ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফল নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪—এই তিনটি আসনের ফলাফল আপাতত ঘোষণা করা হবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে জয়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলা থাকায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ সংক্রান্ত তিনটি পৃথক চিঠি গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জারি করা হয়েছে। চিঠিগুলোতে আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বৈধতা বহাল থাকলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে ফলাফল প্রকাশে আইনগত বাধ্যবাধকতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর ক্ষেত্রে আপিল বিভাগে দায়ের করা সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (সিপিএলএ) নং ৪৪১/২০২৬—যা হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১১৭৪/২০২৬ থেকে উদ্ভূত—এর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের প্রেক্ষিতে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ আসনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে ইসি চিঠিতে উল্লেখ করেছে।
একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম-২ আসনের ক্ষেত্রেও। এ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের বিষয়ে আপিল বিভাগে দায়ের করা সিপিএলএ নং ৪৪০/২০২৬—যা রিট পিটিশন নং ১০৫৩/২০২৬ থেকে উদ্ভূত—এর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশ অনুসারে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। তবে মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ করা হবে না বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।
শেরপুর-2 আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। আপিল বিভাগে দায়ের করা সিপিএলএ নং ৪৪২/২০২৬—যা রিট পিটিশন নং ১১৮৬/২০২৬ থেকে উদ্ভূত—এর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশ অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট মামলার চূড়ান্ত আদেশের ওপরই তার নির্বাচনের ফলাফল নির্ভরশীল হবে বলে ইসি সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বা নির্বাচনী বৈধতা নিয়ে বিচারাধীন মামলা থাকলে এবং আদালত এ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করলে নির্বাচন কমিশন তা বাস্তবায়নে বাধ্য। আদালত যদি প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন কিন্তু ফলাফল ঘোষণায় শর্ত আরোপ করেন, সেক্ষেত্রে কমিশন ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখতে পারে। সংশ্লিষ্ট তিনটি ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের আদেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল থাকলেও মামলার নিষ্পত্তির পূর্বে ফলাফল ঘোষণায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইনজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি। আদালত যদি প্রার্থীদের পক্ষে রায় দেন, তবে ফলাফল ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে, রায় বিপরীত হলে সংশ্লিষ্ট আসনে ভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে, যার মধ্যে পুনর্নির্বাচনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে জাতীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ গঠন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বিলম্বিত হতে পারে। তবে আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে কমিশন সংশ্লিষ্ট চিঠিতে উল্লেখ করেছে।
এদিকে, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিচারাধীন মামলার প্রভাব এবং ফলাফল স্থগিত রাখার নজির নিয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানি ও রায়ের তারিখের ওপর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট তিনটি আসনের ফলাফল ঘোষণার বিষয়টি নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


