আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিজয় তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্ককে আরও জোরদার করা এবং পারস্পরিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমন্বিতভাবে কাজ করতে ভারত প্রস্তুত। বাণিজ্য, সংযোগ, জ্বালানি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বহুমাত্রিক। স্বাধীনতার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ক্রমশ সম্প্রসারিত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানি, রেল ও সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধার, নৌপথ ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক উদ্যোগেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে আসছে।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা প্রেরণ কূটনৈতিক রীতির অংশ। এ ধরনের বার্তার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা ও অগ্রাধিকারের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের পক্ষ থেকে দ্রুত অভিনন্দন বার্তা প্রদান দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষার ইঙ্গিত বহন করে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভারত দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ আমদানি, জ্বালানি সরবরাহ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ভারতের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংযোগ উন্নয়ন এবং ট্রানজিট সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা চলমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে তা নির্ভর করবে পারস্পরিক অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং অর্থনৈতিক কৌশলের ওপর। তবে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বার্তা বিনিময় ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ইতিবাচক ভিত্তি তৈরি করে।
এদিকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা বার্তা আসছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


