রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে বিজয়ের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সারাদেশে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের বিজয় মিছিল বা সভা-সমাবেশ না করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর এ কর্মসূচি পালনের কথা জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের মাধ্যমে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর বরাতে জানানো হয়, শুক্রবার বাদ জুমা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে সারাদেশে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত আয়োজন করতে দলীয় নেতাকর্মীদের বলা হয়েছে। তবে কোথাও বিজয় মিছিল বা সমাবেশ আয়োজন না করার জন্যও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি ও দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয়লাভ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বিজয়কে সামনে রেখে দলীয় কর্মসূচি সম্পর্কে সংযত অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনদুর্ভোগ এড়াতে কেন্দ্রীয়ভাবে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৯৯টি আসনের মধ্যে ভোট গণনা শেষে ২৩৪টি আসনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ১৭৬টি আসনে জয়লাভ করেছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি জোটভুক্ত অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও কয়েকটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। ফলে সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ১৫১টি আসনে বিজয় প্রয়োজন। প্রকাশিত ফলাফল ও দলীয় দাবির ভিত্তিতে বিএনপি সে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিজয় মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। অতীতে জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর কিছু এলাকায় সংঘর্ষ, সহিংসতা কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। সে প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয়ভাবে সংযত কর্মসূচি ঘোষণা দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি কৌশল হতে পারে।
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দোয়া ও মোনাজাত কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ ও জনগণের কল্যাণ কামনা করা হবে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশব্যাপী ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণার পর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চূড়ান্ত ফলাফল ও নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নতুন সরকারের কাঠামো নির্ধারণে দলীয় সিদ্ধান্তের দিকেই এখন দৃষ্টি রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।


