ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা, রোববার সরকার গঠনের সম্ভাবনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা, রোববার সরকার গঠনের সম্ভাবনা

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে এগিয়ে থেকে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশব্যাপী বিভিন্ন আসনের প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে দলটির প্রার্থীরা ২১২টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচন-পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকার গঠন হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে মোট ৩০০টি সাধারণ আসন রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ১৫১টি আসনে জয়লাভ প্রয়োজন। সে হিসাবে ২১২ আসনে জয় সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্দেশ করে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের পরই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফল সংকলনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও পুনর্গণনা বা ফল যাচাইয়ের আবেদন এলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হবে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর নির্বাচিত সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হবে, যা সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক পূর্বশর্ত।

নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী। ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচন কমিশন জানায়, অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও তা সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেনি বলে কমিশনের প্রাথমিক মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেবে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়ে দলটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে দলীয় নেতারা জানান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়া যে কোনো দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে নীতিনির্ধারণ ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হয়। তবে একই সঙ্গে বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা এবং সংসদীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।

অন্যদিকে, পরাজিত প্রার্থীদের কেউ কেউ ফলাফলের বিষয়ে আপত্তি জানালে তা আইনানুগ উপায়ে নিষ্পত্তি হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করতে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে মামলা করা যেতে পারে।

এদিকে নতুন সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ গঠন, দপ্তর বণ্টন এবং সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের মতো বিষয়গুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নির্ধারিত হতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে।

সামগ্রিকভাবে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ায় দেশে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। এখন চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ