রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সকল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা জানান।
ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় দলীয় প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ছিল এবং সামগ্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা হবে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করা হবে।
দলীয় অঙ্গীকারের বিষয়ে তিনি তিনটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সরকারের নীতিগত লক্ষ্য হবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা জোরদার করা এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি জানান, নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করে নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। এর মাধ্যমে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হবে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ২১৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এ ফলাফলের ভিত্তিতে দুই দশক পর দলটি এককভাবে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় একটি জোট ৭৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৬ জন বিজয়ী হয়েছেন।
তবে তিনটি আসনের ফলাফল এখনও চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা যায়নি। আদালতের নির্দেশনার কারণে শেরপুর-৩, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। এ কারণে ২৯৬টি আসনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলার নিষ্পত্তির পর বাকি আসনগুলোর ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এসেছে, যা নীতি নির্ধারণ, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ভারতের, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও যোগাযোগভিত্তিক সহযোগিতায় যুক্ত রয়েছে। ফলে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থার অগ্রাধিকার আঞ্চলিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সরকার গঠন ও মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের মাধ্যমে নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন দৃষ্টি রয়েছে গেজেট প্রকাশ, শপথ গ্রহণ এবং নতুন সরকারের প্রথম দিকের সিদ্ধান্তসমূহের দিকে।


